শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ফসলি মাঠ থেকে জান্নাতুল তাজমিন নামে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের নির্জন পাকা সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে নির্জন সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। গাড়িটি থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে পড়ে ছিল একটি ভ্যানিটি ব্যাগ। আশপাশের চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতের ধানগাছও দুমড়েমুচড়ে এলোমেলো অবস্থায় ছিল। এসব চিহ্ন ধরে এগিয়ে গিয়ে ধানক্ষেতের কাদার মধ্যে মুখ গোঁজা অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। আরও পড়ুন,মহানবীর আদর্শে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক ভূমিকা সম্ভবতার গলায় প্যাঁচানো ছিল একটি গামছা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে। নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনেটার কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে। তবে পরিবারের সঙ্গে তাজমিন কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সদর দক্ষিণ সার্কেলের মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে দৃশ্যমান বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অন্য কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা নিবন্ধিত অটোরিকশাটির সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই তাজমিনের মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা। পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

কাহালুতে ডোবা থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

বগুড়ার কাহালুতে ডোবা থেকে আলমগীর আকন্দ নামে ৫০ বছর বয়সী এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বড়ইতলা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, মরদেহের পাশে একটি অটোরিকশা পড়ে ছিল। পরে সেটিও জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আলমগীরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।নিহত আলমগীর আকন্দ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার শাস্তিনগর ইউনিয়নের উদয়পুর থল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আবুল হোসেন আকন্দের ছেলে।আড়ও পড়ুন,জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান আটক অর্ধশতাধিকস্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের কিছুক্ষণ আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বড়ইতলা এলাকায় একটি শিশুসহ এক নারী ও এক পুরুষকে দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার বিষয়টি টের পেয়ে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। তাদের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার সকালে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাহালু থানার উপপরিদর্শক নুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পুলিশ বলছে, অটোরিকশাটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তদন্ত চালানো হচ্ছে। আলমগীরকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পেছনে কারা জড়িত তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কাহালুতে ডোবা থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মো. ইসমাইল নামে ছয় বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম পাড়া সংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।নিহত ইসমাইল ওই এলাকার মো. আকবর হোসেনের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে পাশের হাওলাদার মার্কেটের একটি দোকানের কাছে গিয়েছিল ইসমাইল। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয়রা গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।মঙ্গলবার সকালে খালের ভেতরে ভাসমান একটি বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাটি উদ্ধার করে। পরে বস্তার ভেতর থেকে নিখোঁজ শিশু ইসমাইলের মরদেহ পাওয়া যায়।আড়ও পড়ুন,গুরুদাসপুরে সন্ত্রাস দমন মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারএ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একই এলাকার মো. রোকন নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।শিশুটির চাচা মো. সৈকত ইসলাম বাবুর দাবি, ইসমাইলের বাবার সঙ্গে রোকনের মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে আগে থেকে বিরোধ ছিল। তাঁর অভিযোগ, ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন আগে রোকন শিশুটির বাবাকে হুমকি দিয়েছিলেন।তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত রিপন কুমার সাহা জানিয়েছেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।স্বজনরা মামলা করলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইসমাইলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা স্পষ্ট হবে।

নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

খুলনায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে

খুলনা শহরতলীর নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) খুলনা ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংবাদ দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নির্জনাকে শনাক্ত করেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডের একটি ৭ তলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী কিছু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। কেননা, সেই বস্তা থেকে তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সুরতহালকারী পুলিশের এসআই লাভলী পাল বলেন, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাত এবং গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় কালো একটি দাগও রয়েছে। নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন মীম বলেন, গতকাল দুপুরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে সবার অজান্তে নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে নির্জনা একটি চিঠি লিখে যায়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার কোনো খোঁজ খবর তোমরা নিওনা।' আজ দুপুরে প্রতিবেশীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের মরদেহের ছবি দেখে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করেন। নির্জনার মা বলেন, গত ২১ এপ্রিল নির্জনা বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ছেলেটির চরিত্র ভালো নয়। ১৭ দিন পর নির্জনাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু ওই ছেলে নির্জনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। আরিফা ইয়াসমিন মীমের সন্দেহ, ‘রনি তার মেয়েকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে হত্যা করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে গেছে।' খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, একজন পুরুষ মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে একটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে রেখে যায়। নির্জনার মাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি নিরালা ও প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা বা এর আশপাশে ঘটতে পারে। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

খুলনায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে