শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
এমপিদের জনগণের ভালো-মন্দ দেখতে হবে: রিজভী

এমপিদের জনগণের ভালো-মন্দ দেখতে হবে: রিজভী

দুর্গাপূজায় নাশকতা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এ ষড়যন্ত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ একটি পক্ষ মদদ দিচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রয়াত নেতা হান্নান শাহর স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। আরও পড়ুন,পুলিশ ও বিএনপির পাহারায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন সম্পন্নবিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি লুটপাটের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। সংকটের মধ্যেও জনগণকে স্বস্তি দিতে সরকার কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, তাঁরা টাকার জন্য রাজনীতি করেন না। সংসদ সদস্যদের জনগণের ভালো-মন্দের দিকে নজর দিতে হবে। সারের ডিলার কিংবা ঠিকাদারি করার উদ্দেশ্যে কেউ রাজনীতি করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভীর বক্তব্যে দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি উঠে আসে। তবে নাশকতার ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত এবং অভ্যন্তরীণ কোন পক্ষ এতে মদদ দিচ্ছে—সে বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ধোঁয়াশা

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এখনো বহাল রয়েছে তাঁর সংসদ সদস্য পদ।ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—গাজী নজরুল এখন কোন দলের এমপি? নাকি তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদে রয়েছেন?গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠায় দলটি।তবে গাজী নজরুলের বক্তব্য ভিন্ন। আড়ও পড়ুন,জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলায় সাদ্দাম ইনানসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডতিনি নিজেকে এখনো জামায়াতের সদস্য ও এমপি মনে করছেন। তাঁর দাবি, দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাঁর সদস্যপদ এখনো বহাল রয়েছে।অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল আর দলের কেউ নন। তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে এবং দলীয়ভাবে তাদের করণীয় শেষ করেছে জামায়াত।এদিকে সংসদেও তাঁর অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন।গত ১৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ওই কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁকে বৈঠকে ডাকা হয়নি, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়।এরপর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে গাজী নজরুলকে রাখার বিষয় নিয়েও সংসদে আপত্তি ওঠে। পরে ওই কমিটি থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।তবে এসব ঘটনার মধ্যেও সাতক্ষীরা-৪ আসনে তাঁর সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে।এখন মূল প্রশ্ন—দল থেকে বহিষ্কারের পর একজন সংসদ সদস্যের দলীয় পরিচয় কী হবে এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না।গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন গুরুত্বপূর্ণ।তাই দলীয় বহিষ্কার আর সংসদ সদস্য পদ—দুটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করেই তাঁর বর্তমান অবস্থান নির্ধারণের অপেক্ষা।

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ধোঁয়াশা