শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে দুই তরুণকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই তরুণ হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাকান্দি মহল্লার মোহন বিশ্বাস ও তায়েব মাতুব্বর। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।আরও পড়ুন,হাঁসের খামারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ অসুস্থ আরও দুই শতাধিক একই মামলায় অপহরণের দায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই ধারায় দেওয়া সাজা একইসঙ্গে ভোগ করবেন আসামিরা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামের বাড়ির পাশ থেকে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে মুখে রুমাল চেপে কালো কাচের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় মোহন ও তায়েব। পরে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও মুনসুরাবাদ এলাকার মহাসড়ক দিয়ে মাইক্রোবাসটি চলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যায় তারা। ঘটনার পর কিশোরী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে পরদিন ৯ আগস্ট তার বাবা ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় মোহন ও তায়েবকে আসামি করা হয়।পরে মামলাটি তদন্ত করেন ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক তদন্ত বিকাশ মণ্ডল। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

রাজৈরে বাস-মাহিন্দ্রা সংঘর্ষে কিশোরী নিহত

মাদারীপুরের রাজৈরে যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে রাফিয়া আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় রাফিয়ার মা ও ছোট বোনসহ মাহিন্দ্রার আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফিয়া মাদারীপুর সদর উপজেলার ত্রিভাগদী গ্রামের মনির হাওলাদারের মেয়ে।পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য মা সানজিদা বেগম ও ছোট বোন তাবাসসুম আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে মাহিন্দ্রায় করে টেকেরহাট বন্দরের দিকে যাচ্ছিল রাফিয়া। মাহিন্দ্রাটি বৌলগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী খান পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষে মাহিন্দ্রাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাফিয়াসহ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আড়ও পড়ুন,নিরাপত্তার বিকল্প খুঁজছেন অভিভাবকেরারাদুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাফিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।আহতদের মধ্যে রাফিয়ার মা সানজিদা বেগম ও ছোট বোন তাবাসসুম আক্তারও রয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়।এদিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে সড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার এসআই আনোয়ার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় জড়িত খান পরিবহনের বাসটি আটক করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে নিহত কিশোরীর মরদেহ স্বজনরা নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

রাজৈরে বাস-মাহিন্দ্রা সংঘর্ষে কিশোরী নিহত

খুলনায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে

খুলনা শহরতলীর নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) খুলনা ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংবাদ দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নির্জনাকে শনাক্ত করেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডের একটি ৭ তলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী কিছু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। কেননা, সেই বস্তা থেকে তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সুরতহালকারী পুলিশের এসআই লাভলী পাল বলেন, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাত এবং গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় কালো একটি দাগও রয়েছে। নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন মীম বলেন, গতকাল দুপুরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে সবার অজান্তে নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে নির্জনা একটি চিঠি লিখে যায়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার কোনো খোঁজ খবর তোমরা নিওনা।' আজ দুপুরে প্রতিবেশীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের মরদেহের ছবি দেখে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করেন। নির্জনার মা বলেন, গত ২১ এপ্রিল নির্জনা বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ছেলেটির চরিত্র ভালো নয়। ১৭ দিন পর নির্জনাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু ওই ছেলে নির্জনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। আরিফা ইয়াসমিন মীমের সন্দেহ, ‘রনি তার মেয়েকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে হত্যা করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে গেছে।' খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, একজন পুরুষ মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে একটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে রেখে যায়। নির্জনার মাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি নিরালা ও প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা বা এর আশপাশে ঘটতে পারে। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

খুলনায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে