শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
উত্তর সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক বিস্ফোরণ

উত্তর সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক বিস্ফোরণ

উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পোর কাছে একটি সামরিক অস্ত্রাগারে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।সরকারি বার্তা সংস্থা সানার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার ভোরে আলেপ্পো শহরের দক্ষিণে আল-ইস এলাকার কাছে সিরীয় সেনাবাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর সেখানে আরও কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো পৌঁছে যায়। আলেপ্পোর সিভিল ডিফেন্সের প্রধান ফয়সাল মোহাম্মদ আলি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে চারজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।আলেপ্পো থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো জানান, প্রথম বিস্ফোরণের পরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছুটে যেতে দেখা যায়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিব স্থানীয় বাসিন্দাদের আপাতত ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হাসপাতাল ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,গ্রিনল্যান্ডে পুরোনো সামরিক ঘাঁটি ফের চালু করবে যুক্তরাষ্ট্রএদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিস্ফোরণস্থলের দিকে যাওয়া কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড।স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং পরে বাড়ির ছাদ থেকে দূরে বড় ধরনের আগুনের শিখা দেখতে পেয়েছেন।সিরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রাগারে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ-জোর প্রদেশের একটি সামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হন।এর আগে চলতি মাসের শুরুতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে একটি অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণে ১৪ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। একই এলাকায় গোলাবারুদবাহী একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে আরও পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়া এখন এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পরবর্তী জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সৌদির শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

দক্ষিণ সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।রোববার ভোরে দক্ষিণ সৌদির শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, শারুরাহ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য।তার দাবি, হামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের চলমান সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি বাহিনী হামলা অব্যাহত রাখলে দেশটির আরও গভীরে বড় ধরনের হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।তবে হুতিদের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে শনিবার সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে একটি গোলা আঘাত হানার কথা জানায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে দুজন আহত হন। গোলার আঘাতে একটি মসজিদ কয়েকটি ভবন ও বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়।এদিকে জুলাই থেকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে।আড়ও পড়ুন,হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চায় না দাবি ট্রাম্পের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন এসেছে।হুতিদের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-হুদাইদাহ প্রদেশের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। পাশাপাশি তাইজের দিকে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় শহর মোখা ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তারা।এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি হুতিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।অন্যদিকে সৌদি সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। মারিব আল-বাইদা ও আল-দালি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ বিরতির পর সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সৌদির শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি