দক্ষিণ সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।রোববার ভোরে দক্ষিণ সৌদির শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, শারুরাহ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য।তার দাবি, হামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের চলমান সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি বাহিনী হামলা অব্যাহত রাখলে দেশটির আরও গভীরে বড় ধরনের হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।তবে হুতিদের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে শনিবার সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে একটি গোলা আঘাত হানার কথা জানায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে দুজন আহত হন। গোলার আঘাতে একটি মসজিদ কয়েকটি ভবন ও বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়।এদিকে জুলাই থেকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে।
আড়ও পড়ুন,হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চায় না দাবি ট্রাম্পের
বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন এসেছে।হুতিদের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-হুদাইদাহ প্রদেশের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। পাশাপাশি তাইজের দিকে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় শহর মোখা ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তারা।এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি হুতিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।অন্যদিকে সৌদি সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। মারিব আল-বাইদা ও আল-দালি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ বিরতির পর সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মতামত