প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। বুধবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস। বর্তমানে মির্জা আব্বাস অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন বলেও জানান তিনি। এর আগে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন মির্জা আব্বাস। তবে পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপের জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর আবারও মালয়েশিয়ায় যান তিনি। আরোও পড়ুন,নীতিনির্ধারণে পরামর্শ নিতে উপদেষ্টা পরিষদ গড়ছে জামায়াতদেশটির প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে তাঁর চিকিৎসা চলে। চলতি বছরের ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আবারও মালয়েশিয়া যেতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনে ফেরার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মোকছেদুর রহমান আবির। বর্তমানে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী এসব তথ্য জানান। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর সহকারী। তবে পরে জানা যায়, খবরটি সঠিক নয়। মোকছেদুর রহমান আবির জানান, নামের মিলের কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার জুনিয়র আইনজীবী রফিকুল হোসেন রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর দাফন মিরপুরে হবে। জুনিয়র আইনজীবীর মৃত্যুর খবরের সঙ্গে নামের মিল থাকায় বর্ষীয়ান বিএনপি নেতার মৃত্যুর ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত সহকারী আরও জানান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আগের তুলনায় ভালো আছেন।আরও পড়ুন,আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টাতবে তিনি বেশ কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক জিয়াউল হকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াতের সুবিধার্থে তাঁরা ধানমন্ডির বাসা ছেড়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছাকাছি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাসা নিয়েছেন। এর আগে তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ২ মার্চ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক মারা যান। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর খবরটি সঠিক নয় বলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী স্পষ্ট করেছেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন তথ্যের বদলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।