শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
মাতারবাড়ী ঘিরে জাপানের বড় পরিকল্পনা

মাতারবাড়ী ঘিরে জাপানের বড় পরিকল্পনা

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে জাপান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে শিল্প ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চায় টোকিও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের আগে দেশটির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটিকে শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে মাতারবাড়ী বন্দর বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য জাপানের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ সরকার। সফরের প্রস্তুতি হিসেবে গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। আরও পড়ুন,আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনাসেখানে তাঁকে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হলে মাতারবাড়ী হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন বন্দরটি চালু হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানি পরিকল্পনায় মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে এমন একটি অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে গড়ে ওঠা উন্নয়ন করিডরকে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাপান। এ ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার করার সম্ভাবনাও দেখছেন জাপানি কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়লে মাতারবাড়ী বন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি করলেও দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে সেতুটি এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এই সফরে মাতারবাড়ী বন্দর ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলেছে জাপানি সিরিজ ‘প্লাস্টিক বিউটি’

নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে জাপানি সিরিজ ‘প্লাস্টিক বিউটি’। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নৈতিকতা, সৌন্দর্যের ধারণা এবং নিজের শরীর নিয়ে মানুষের নিরাপত্তাহীনতার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত আট পর্বের এ সিরিজ দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে নেটফ্লিক্সের বিশ্বব্যাপী নন-ইংলিশ টিভি তালিকায়। মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে সিরিজটির দর্শকসংখ্যা প্রথম সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সিরিজটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই চিকিৎসকের ভিন্ন দর্শনকে ঘিরে। ফুমি নুমাতা একজন দক্ষ জরুরি বিভাগের সার্জন। তাঁর কাছে চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের জীবন বাঁচানো। কিন্তু একটি জটিল অস্ত্রোপচারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। একপর্যায়ে হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। পরে যোগ দেন কসমেটিক সার্জারির জগতে। সেখানেই পরিচয় হয় রিন তইয়ামার সঙ্গে। জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী এই কসমেটিক সার্জনকে অনেকে ‘হ্যান্ড অব গড’ বলে মনে করেন। তবে সৌন্দর্য ও চিকিৎসা নিয়ে ফুমি এবং রিনের চিন্তাভাবনা সম্পূর্ণ আলাদা। ফুমি মনে করেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ না হলে শরীর পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। অন্যদিকে রিনের বিশ্বাস, মানুষের মানসিক কষ্টও বাস্তব এবং সৌন্দর্যের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে অবহেলা করা যায় না। আরও পড়ুন,‘নীল রং আমাতেই সাজে’ জয়ার পোস্টে মুগ্ধ ভক্তরাএই মতপার্থক্য থেকেই গল্পে উঠে আসে চিকিৎসার নৈতিকতা, অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি এবং পারিবারিক সম্পর্কের নানা জটিলতা। একই সঙ্গে সৌন্দর্যের সামাজিক মানদণ্ড মানুষের আত্মপরিচয় ও মানসিক স্বাস্থ্যে কীভাবে প্রভাব ফেলে, সেটিও তুলে ধরেছে সিরিজটি। ‘প্লাস্টিক বিউটি’র অন্যতম আকর্ষণ দুই প্রধান অভিনেত্রীর অভিনয়। ফুমি নুমাতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মায়ু মাতসুওকা। ‘শপলিফটার্স’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী সিরিজটিতে একজন দক্ষ কিন্তু নৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে আপসহীন চিকিৎসকের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে রিন তইয়ামার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিসা নাকা। তাঁর চরিত্রে সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার একটি উপায় হিসেবে উঠে এসেছে। দুই অভিনেত্রীর বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি সিরিজটির গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলেছে জাপানি সিরিজ ‘প্লাস্টিক বিউটি’