রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
পোশাক-ভাষায় আলেম হওয়া যায় না, জ্ঞান অর্জন করতে হয়

পোশাক-ভাষায় আলেম হওয়া যায় না, জ্ঞান অর্জন করতে হয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘সিনিয়র মাদ্রাসায়’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। শিক্ষার্থীদের শুধু পোশাক বা বাহ্যিক পরিচয়ে নয়, জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ধর্মের অপব্যবহার, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নিয়েও বক্তব্য দেন এই সংসদ সদস্য।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফজলুর রহমান।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরলেই কেউ আলেম হয়ে যায় না। প্রকৃত আলেম হতে হলে জ্ঞান অর্জন করতে হয়।এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সিনিয়র মাদ্রাসা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।ধর্মের অপব্যবহার নিয়েও কথা বলেন ফজলুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যবসা করা—তিনটি বিষয় এক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শিক্ষার্থীদের সত্য কথা বলা, ন্যায়ের পথে চলা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।আড়ও পড়ুন,রংপুরমুখী লংমার্চ ঘিরে উত্তাপ, রাশেদ খাঁনের অভিযোগ ও সতর্কবার্তাতরুণদের উদ্দেশে ফজলুর রহমান বলেন, অন্ধকার দূর করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসও তুলে ধরেন তিনি। ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা, ১১ দফা এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে স্বাধীনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, আইনজীবী এবং ছাত্রনেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়ধ্বনি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গণেশ চতুর্থীতে দিশার পোশাক ঘিরে তুমুল বিতর্ক

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আম্বানি পরিবারের আয়োজনে হাজির হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানি। উৎসবের সাজে লাল লেহেঙ্গা পরে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন অভিনেত্রী। তবে অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পোশাক।দিশার পরনে ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ করা লাল ঘাগরা। সঙ্গে ছিল একই রঙের ব্লাউজ ও এক কাঁধে জড়ানো ওড়না। বড় দুল ও চুড়ির সঙ্গে খোলা চুলে উৎসবের সাজে দেখা যায় তাঁকে।অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় আলোকচিত্রীদের জন্য পোজ দেন দিশা। পরে তাঁর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনা।নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন পোশাক কতটা মানানসই। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন গণেশ উৎসব কি এখন তারকাদের জন্য ফ্যাশন প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠছে?এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন গণপতি উৎসবের জন্য এমন পোশাক কতটা উপযুক্ত। আরেকজন মন্তব্য করেছেন দিশা গণপতি উৎসবে গিয়েছিলেন নাকি র‍্যাম্পে হাঁটতে।সমালোচকদের যুক্তি মূলত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও সামাজিক প্রত্যাশাকে ঘিরে। তাঁদের দাবি একজন ব্যক্তি নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরতে পারেন। আড়ও পড়ুন,এমির মঞ্চে ‘উইডোজ বে’-এর দাপট, ১৪ পুরস্কারে রাতের সেরা বিজয়ীতবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই আয়োজনের পরিবেশ ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান দেখানো উচিত।তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকের মতে পোশাক একজনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কে কী পরবেন তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা উচিত নয়।দিশাকে ঘিরে এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। কয়েক সপ্তাহ আগেই অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে একই ধরনের বিতর্ক হয়েছিল। এবার দিশার পোশাক নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় সেই পুরোনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।তবে এখন পর্যন্ত নিজের পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার কোনো জবাব দেননি দিশা পাটানি।

গণেশ চতুর্থীতে দিশার পোশাক ঘিরে তুমুল বিতর্ক