শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের আট মন্দিরের প্রতিনিধিদের মতবিনিময়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের আট মন্দিরের প্রতিনিধিদের মতবিনিময়

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। সোমবার, ১২ অক্টোবর, বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। আরও পড়ুন,মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশএ সময় বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যতটুকু কাজ করেছে, তা নেতারাই স্বীকার করেছেন। আরও কিছু বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতির সংকটের সময়ে যখন ধর্মকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তখন অন্য ক্ষেত্রে কেন ধর্মকে বিবেচনায় নেওয়া হবে? দেশ স্বাধীন করার পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই সম্মিলিতভাবে অংশ নিয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না। তারেক রহমান আরও বলেন, আল্লাহ তাঁকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। নিজের অবস্থান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে।

প্রতিনিধি সভা চলাকালে জাসদ কার্যালয় থেকে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ জনের মধ্যে ২৪ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁরা মুক্তি পান। জাসদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাকি তিনজনের মধ্যে একজনের বাবার নামের বানানে ভুল থাকায় জামিন পাওয়ার পরও তিনি বৃহস্পতিবার মুক্তি পাননি। তিনি জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে থাকা একটি দোকানের কর্মচারীর বাবা বলে জানানো হয়েছে। অন্য দুই নেতার জামিন আবেদনের শুনানি আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আরও পড়ুন,জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন রাশেদ খাঁনএর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা চলাকালে ২৮৯ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের অভিযোগ, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে ঘটনাটি নিয়ে জাসদের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। দলটির দাবি, ঢাকা মহানগর পুলিশের অনুমতি নিয়েই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী অংশ নেন। জাসদের বক্তব্য অনুযায়ী, সভা চলাকালে একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালান। পরে পুলিশ কার্যালয় ঘেরাও করে নেতাকর্মীদের আটক করে নিয়ে যায়। ওই রাতেই যাচাই-বাছাই শেষে আটক ব্যক্তিদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিনিধি সভা চলাকালে জাসদ কার্যালয় থেকে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ