শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা বেশি

আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা বেশি

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ড শনাক্তের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউর কাছে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের ৩০ হাজার ১৯৯টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরে রিপোর্টের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। বিএফআইইউর কাছে জমা পড়া রিপোর্টের মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড প্রতিবেদন। তবে রিপোর্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে সরাসরি অর্থপাচার বা আর্থিক অপরাধ ৭৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক নজরদারি ও নিয়ম মেনে চলার চাপ বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তে সচেতনতা বাড়ার কারণে রিপোর্টের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো নতুন ঝুঁকিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানেও রিপোর্ট বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২০-২১ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট ছিল পাঁচ হাজার ২৮০টি। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে আট হাজার ৫৭১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ১০৬টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৩৪৫টিতে দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টি। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে রিপোর্টের সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট বৃদ্ধি আর্থিক অপরাধের সম্ভাব্য ঝুঁকির পাশাপাশি নজরদারি ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে রিপোর্টের সংখ্যা ছাড়াও তদন্তের ফলাফল, অপরাধের ধরন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য শক্তি জোগায় সুরক্ষা দেয় প্রোটিন বিএফআইইউর পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ব্যাংক খাত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯৯১টি। এক বছরে ব্যাংক খাতের রিপোর্ট বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। মোট রিপোর্টের মধ্যে ব্যাংকের অংশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৯১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশে। এতে একদিকে ব্যাংকগুলোর লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং কার্যক্রম বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়, অন্যদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে সন্দেহজনক অর্থপ্রবাহের ঝুঁকিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএফআইইউ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে ১৯৯টি আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি প্রতিবেদনে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। প্রতারণা ও জালিয়াতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন ছিল ৪৬টি, করসংক্রান্ত অপরাধের ২৭টি এবং মুদ্রা চোরাচালানসংক্রান্ত ১১টি। এই পরিসংখ্যানে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে। দুর্নীতির অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ করে সম্পদ কেনা, ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ অর্থের সঙ্গে মিশে গেলে এর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সরকারি ব্যয়, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর আদায় এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভুয়া ও অনুমাননির্ভর’ প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল

আয়কর দপ্তরের সাম্প্রতিক তল্লাশি নিয়ে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং। তার দাবি, যেসব স্থানে সম্প্রতি আয়কর তল্লাশি চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। নিজের নাম জড়িয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ ও ‘অনুমাননির্ভর’ বলেও মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাকুল বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হয়ে অবৈধ বিদেশি অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন। দেশের ভেতরে বা বিদেশে অন্য কারও হয়ে কোনো বেনামি সম্পত্তিও তার নেই বলে দাবি করেন তিনি।রাকুল জানান, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর পরিবারের সন্তান এবং চলচ্চিত্রজগতে কোনো গডফাদারের সহায়তা ছাড়াই নিজের পরিশ্রমে ক্যারিয়ার গড়েছেন। ২০ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত আয়কর দিয়ে আসছেন বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, কখনো কারও কাছ থেকে দামি সম্পত্তি উপহারও নেননি।অভিনেত্রীর দাবি, কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অবৈধ বিদেশি অর্থ পাঠানোর সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। আরও পড়ুন,বিতর্কের মুখে সঞ্জয় দত্ত বললেন ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছেতার নাম জড়িয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোতে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে এসব প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে সত্য তথ্য পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন।এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের আয়কর দপ্তর সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ১২টি স্থানে তল্লাশি চালায়। চলচ্চিত্র নির্মাণের অর্থায়নের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাঠানো হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। এ ঘটনায় প্রযোজক ভাসু ভাগনানি ও প্যানোরামা স্টুডিওসের সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে আসে। তবে রাকুলের দাবি ওই তল্লাশির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।কাজের দিক থেকে রাকুল প্রীত সিংকে সর্বশেষ ‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’ সিনেমায় দেখা গেছে। বর্তমানে নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ সিনেমায় শূর্পণখার চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সিনেমাটিতে আরও রয়েছেন রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ।

ভুয়া ও অনুমাননির্ভর’ প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল

অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চার গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তিনজন এবং পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। তবে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।মন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয়, ওঠাবসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। তাদের বয়স নিহত অপ্রতিমের চেয়ে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ বছর বেশি বলে জানান তিনি।হত্যাকাণ্ডের সময় অপ্রতিমের কাছে থাকা মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,হিমবাহ গলে বাড়ছে বাংলাদেশের বন্যার ঝুঁকি এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাটির পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পল্লবীতে শিশু হত্যার একটি মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, একইভাবে এ মামলার তদন্তও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও মোটিভেশনাল কার্যক্রম বাড়াতে হবে।একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং সংগৃহীত আলামতের ফরেনসিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চার গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস