শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
তদন্তের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছেন রিজওয়ান

তদন্তের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছেন রিজওয়ান

অনলাইন বেটিং এবং ইংল্যান্ড সফরে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি। তদন্তের নিষ্পত্তি না হলেও বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে মাঠে ফিরছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির প্রেসিডেন্টস ট্রফির সপ্তম ও শেষ রাউন্ডে সুই নর্দান গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের অধিনায়কত্ব করবেন রিজওয়ান। দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত মাসে ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পাকিস্তানের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন রিজওয়ান। দেশে ফিরে তিনি নিজের ঘরোয়া দল এসএনজিপিএলে যোগ দেন। দলের সঙ্গে অনুশীলন এবং টিম মিটিংয়েও অংশ নেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকার কথা জানিয়ে তাঁকে না খেলানোর নির্দেশ দেয় পিসিবি। এরপর দল ছাড়তে হয় এই ক্রিকেটারকে।আরও পড়ুন,জ্যোতির বদলে নেতৃত্বে নাহিদা সহ-অধিনায়ক সোবহানা এবার পিসিবির ঘরোয়া ক্রিকেট বিভাগের পরিচালকের কাছ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ায় আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এখনো শেষ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়নি। রিজওয়ানের প্রত্যাবর্তনে এসএনজিপিএল দল নতুন করে উজ্জীবিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, আট দলের প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে দলটির অবস্থান বর্তমানে টেবিলের তলানিতে। ছয় ম্যাচ খেলে পাঁচটি ড্র ও একটি হারে তাদের সংগ্রহ ৫৩ পয়েন্ট। টুর্নামেন্টের শেষ রাউন্ডে ১৯ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডির শোয়েব আখতার স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থানে থাকা খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের মুখোমুখি হবে এসএনজিপিএল। এই ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে রিজওয়ানের দায়িত্ব হবে দলকে জয় এনে দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করার চেষ্টা করা। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পাওয়া আর তদন্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়া এক বিষয় নয়। অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রিজওয়ানের তদন্তের বিষয়টি আলাদা প্রক্রিয়া হিসেবেই থাকবে।

ফোন জব্দের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টের পর আইসিসিতে রিজওয়ান

পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন এখনো তাঁর হাতে ফেরেনি। ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি—এনসিসিআইএ ফোনটি জব্দ করে। পরে সেটি পাকিস্তানে নিয়ে করা হয় ফরেনসিক পরীক্ষা।ফোন জব্দ ও তদন্তকারী সংস্থার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিজওয়ান। তবে লাহোর হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল—আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে গেছেন পাকিস্তানের এই তারকা ক্রিকেটার।ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে ঘিরে।টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের কিছু তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে নামে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।তদন্তের অংশ হিসেবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের জানতে চাওয়া হয়—ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচ চলাকালে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের ধরন কী ছিল।তবে তদন্তের বিষয়টি শুধু ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসেই সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।এনসিসিআইএর নোটিশ নিয়ে আপত্তি ছিল রিজওয়ানের। তাঁর দাবি, নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে তদন্তের কথা বলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। তাই অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন তিনি।এই অবস্থায় ফোন জব্দের প্রক্রিয়া ও নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন রিজওয়ান। শুনানি শেষে আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।আড়ও পড়ুন,নেপাল প্রিমিয়ার লিগে আকবর আলীর অভিষেকএরপরই নতুন মোড়।রিজওয়ান আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে জানতে চেয়েছেন—তাঁর ফোন জব্দ, ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নেওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়ে আইসিসি কিংবা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড কিছু জানত কি না।জিও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ানের এই যোগাযোগ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়। বরং পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না এবং এখন তাঁর করণীয় কী—সেটিই জানতে চেয়েছেন তিনি।ফোন জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হেফাজতে ছিল বলে জানা গেছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি পিসিবি। একই সময়ে টেস্ট দল থেকেও রিজওয়ান, ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

ফোন জব্দের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টের পর আইসিসিতে রিজওয়ান