শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর সুপারিশ

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর সুপারিশ

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, বাস্তবায়ন এবং লোকসানের কারণ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বর্তমানে আর্থিক লোকসানের পেছনের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী বৈঠকে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান এক হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের তালিকা কমিটির সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্পের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র তুলে ধরে কীভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সে বিষয়েও কমিটিকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণও ব্যাখ্যা করা হয়। আরও পড়ুন,জিয়া ও খালেদা জিয়ার বই সংগ্রহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়এর মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে সমস্যা, যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ঘাটতি, সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে আরও জানানো হয়, অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রমও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শূন্য পদের বিপরীতে সুপরিকল্পিত কর্মভার নির্ধারণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন কমিটির সভাপতি। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশন, পরিকল্পনা বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খাবারের মান ও পুষ্টি নিশ্চিতের সুপারিশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান খাদ্য কর্মসূচির খাবারের সঠিক মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। খাবারের মানে কোনো ধরনের ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। বৈঠকে দেশের সব শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্যও সুপারিশ করেছে কমিটি। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের খাতভিত্তিক বাজেট ও ব্যয় বিভাজন নিয়ে আলোচনা হয়। আরও পড়ুন,চার বছরের মধ্যে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যএর মধ্যে ছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট। এ সময় ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছরের খাতভিত্তিক বাজেট বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় সব সদস্যকে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খাবারের মান ও পুষ্টি নিশ্চিতের সুপারিশ