শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদির

রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদির

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তাঁকে বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে। হামলার পর থেকে সৌদি যুবরাজের জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আরও পড়ুন,সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চেতাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে হুতি বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হুতিদের হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও কঠোর হবে। অন্যদিকে, একের পর এক হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর বহু ফ্লাইট বাতিলের খবর

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয়বারের মতো হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এ ঘটনার পর রিয়াদগামী কয়েকটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন হামলার খবর আসে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত অন্তত তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্মিনালের কাছে পার্ক করা সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক বিমানে আগুন ধরে যায়। তাদের ধারণা,আরও পড়ুন,ইরান নিয়ে সামরিক পদক্ষেপে বিরতির ঘোষণা ট্রাম্পেরক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ অথবা অন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার সময় বিমানটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাত্রীদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বলা হয়। পাশাপাশি সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। একই সময়ে রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর পাওয়া যায়। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে এভিয়েশন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দরের প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শুক্রবার আরও ৩১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর বহু ফ্লাইট বাতিলের খবর

সৌদির রাজধানী রিয়াদে হামলা, দায় স্বীকার হুতিদের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতিরা। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডুলি দেখা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর হামলার দায় স্বীকার করে তারা। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।রিয়াদের আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডুলি। বিমানবন্দরের মহাসড়কের কাছ থেকে দেখা যায় আগুনের শিখাও।রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করে হুতিরা।হুতিদের দাবি, রিয়াদের পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।তবে রিয়াদের ঠিক কোন কোন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি হুতিরা।তাদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাব হিসেবেই এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে।এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী জানায়, শনিবার ভোররাতে রিয়াদের দিকে ছোড়া হুতিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।একই সঙ্গে সৌদির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ ও ফারাসান,আড়ও পড়ুন,ইরান যুদ্ধে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ যুক্তরাষ্ট্রেরপশ্চিমাঞ্চলের তায়িফ এবং ইয়ানবুতেও হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে তারা।রিয়াদে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। তবে এসব শব্দ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ থেকেও হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জুলাই থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে আসছে হুতিরা। তবে চলমান সংঘাত শুরুর পর রিয়াদে হামলার দাবি এবারই প্রথম।হামলার আশঙ্কায় শনিবার ভোররাতে রিয়াদ ও আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।অ্যাঙ্কর আউট:রিয়াদে হামলার এই দাবির পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সৌদির রাজধানী রিয়াদে হামলা, দায় স্বীকার হুতিদের

ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত তীব্র

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। হুথিদের দাবি তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার হুথিরা জানিয়েছিল গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা ৩০০-তে পৌঁছেছে।অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দাবি করেছে তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলায় শুক্রবারের সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর হাতে ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সরকার। চলতি সপ্তাহে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে আল-ওয়াজিয়াহ অন্যতম।সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানী সানাতেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবারের ওই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।বিক্ষোভকারীরা ইরান-সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানান। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের বিরোধিতায় বিভিন্ন স্লোগান দেন।আড়ও পড়ুন,গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সমঝোতা ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের রাজধানীতেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে সৌদি আরব ও হুথিদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে তাইজসহ কয়েকটি এলাকায় লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।তবে হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি হামলার যে সংখ্যা এবং ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে হতাহতের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি। স্বাধীনভাবে এসব সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত তীব্র