শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
শহীদ ওসমান হাদীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনা

শহীদ ওসমান হাদীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনা

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শহীদ ওসমান হাদীর রাজনৈতিক আদর্শ, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন এবং তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার, ১০ অক্টোবর দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ থাকলেও তার মৃত্যুর পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে, জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম জানানো হয়েছিল। রাশেদ খাঁনের দাবি, তখন ওসমান হাদী প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। আরও পড়ুন,ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেনএ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতের সমালোচনাও করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, শহীদ ওসমান হাদীকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির দাফন নিয়ে বিতর্ক করা উচিত নয়। পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে এবং মৃত ব্যক্তিকে ঘিরে বিরোধীপক্ষকে বিতর্কের সুযোগ দেয় এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন বলে তারা একমত হয়েছেন।

হাদী হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে সেখানে অবস্থান নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা। পদযাত্রা শুরুর পর বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত এই পদযাত্রা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনটির ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন বাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।আরও পড়ুন,তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি শফিকুর রহমানতিনি অভিযোগ করেন, হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত, আওয়ামী লীগ ও র জড়িত। তবে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবস্থান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন। হাদী হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় তারা। তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি বা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।

হাদী হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু