মাত্র দুই ঘণ্টা জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ! জাল তুলতে গিয়ে দেখা গেল পুরো জালজুড়েই রুপালি ইলিশ। এত মাছ যে, জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই হিমশিম খেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে ফেরে এফবি নাজমা। মাছ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকায়। দীর্ঘদিনের হতাশার পর একসঙ্গে এত মাছ পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মাঝে।গভীর সাগর থেকে ঘাটে ফিরেছে মাছভর্তি এফবি নাজমা। রোববার সকালে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে ট্রলারটি ভিড়তেই শুরু হয় মাছ নামানোর ব্যস্ততা।ট্রলারের মাঝি বাপ্পি মিয়ার ভাষ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পাথরঘাটা থেকে যাত্রা করেন তাঁরা। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাগরে জাল ফেলেন। মাত্র দুই ঘণ্টা পর জাল তুলতেই দেখা যায়—জালজুড়ে রুপালি ইলিশ।বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই বেগ পেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরে ট্রলারটি।“দুই ঘণ্টার মতো জাল ফেলার পর যখন জাল তুলেছি, তখন দেখি পুরো জাল ইলিশে ভরা। এত মাছ হয়েছে যে জাল থেকে মাছ ছাড়াতেই কষ্ট হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,অপ্রতীম হত্যা: মোবাইল উদ্ধারের পর হত্যার বর্ণনা দিল পুলিশ
ট্রলার মালিক এনামুল হোসাইন জানান, মাছগুলো প্রতি মণ ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন তাঁরা। তবে মাছের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম হয়েছে। আকার বড় হলে একই পরিমাণ মাছ আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারত বলে জানান তিনি।“এবার মাছ না পাওয়ায় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। একসঙ্গে এত মাছ পাওয়ায় আমরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।”পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার সমিতির সভাপতি সগীর আলম বলছেন, চলতি ইলিশ মৌসুমে এ এলাকায় এক ট্রলারে ১০০ মণ ইলিশ পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।দীর্ঘদিন মাছের দেখা না পেয়ে লোকসানে থাকা ট্রলার মালিক ও জেলেদের মাঝেও ফিরেছে নতুন আশা। এফবি নাজমার জালে বিপুল ইলিশ ধরা পড়ার পর ঘাটে থাকা অন্য জেলে ও ট্রলার মালিকরাও গভীর সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মতামত