রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে নামাজের ধারা, এবার সংরক্ষণের দাবি


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে নামাজের ধারা, এবার সংরক্ষণের দাবি
নামাজের ধারা এবার সংরক্ষণের দাবি

সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক ‘বাবা আদম শহীদ মসজিদ’।সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ছয় গম্বুজের এই মসজিদে আজও নিয়মিত ভেসে আসে আজানের ধ্বনি। হয় নামাজ আদায়।ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি প্রাচীন স্থাপত্য, ইতিহাস আর লোককথার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে এখনো আকর্ষণের কেন্দ্র এই মসজিদ।মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দরগাহবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মসজিদটি নির্মিত হয় ১৪৮৩ খ্রিষ্টাব্দে, সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহের শাসনামলে।ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, তৎকালীন বিক্রমপুরের শাসক মালিক কাফুর শাহ এটি নির্মাণ করেন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, প্রখ্যাত মুসলিম প্রচারক ও সাধক বাবা আদম শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর মাজারের পাশে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।প্রায় ৪৩ ফুট দীর্ঘ ও ৩৬ ফুট প্রস্থের মসজিদটির দেয়াল প্রায় চার ফুট পুরু। লাল পোড়ামাটির ইট, সুরকি ও চুনের গাঁথুনিতে তৈরি এ স্থাপনায় রয়েছে তিনটি খিলানাকৃতির প্রবেশপথ, তিনটি মেহরাব, গ্রানাইট পাথরের স্তম্ভ এবং পোড়ামাটির নান্দনিক অলংকরণ।প্রায় ৫৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে নামাজের ধারা বন্ধ হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

আড়ও পড়ুন,রাজাপুরে প্রথমবার মাদকবিরোধী মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

বর্তমানে মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে দুই শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। আর প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে সমাগম হয় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মুসল্লির।তবে সময়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিতে দেখা দিয়েছে ক্ষয়ের চিহ্ন।দেয়ালের বিভিন্ন অংশে শ্যাওলা, কোথাও ফাটল। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে সংস্কার ও রং করা হয়েছিল। এরপর বড় ধরনের সংস্কার হয়নি।১৯৪৮ সাল থেকে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ফলে মসজিদ কমিটিও নিজেদের উদ্যোগে বড় ধরনের সংস্কার করতে পারছে না।স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ করা না হলে কালের সাক্ষী এই স্থাপনার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তাই দাবি একটাই—ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন স্থাপত্যের এই নিদর্শনটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ।

বিষয় : সংরক্ষণ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে নামাজের ধারা, এবার সংরক্ষণের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক ‘বাবা আদম শহীদ মসজিদ’।সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ছয় গম্বুজের এই মসজিদে আজও নিয়মিত ভেসে আসে আজানের ধ্বনি। হয় নামাজ আদায়।ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি প্রাচীন স্থাপত্য, ইতিহাস আর লোককথার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে এখনো আকর্ষণের কেন্দ্র এই মসজিদ।মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দরগাহবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মসজিদটি নির্মিত হয় ১৪৮৩ খ্রিষ্টাব্দে, সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহের শাসনামলে।ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, তৎকালীন বিক্রমপুরের শাসক মালিক কাফুর শাহ এটি নির্মাণ করেন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, প্রখ্যাত মুসলিম প্রচারক ও সাধক বাবা আদম শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর মাজারের পাশে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।প্রায় ৪৩ ফুট দীর্ঘ ও ৩৬ ফুট প্রস্থের মসজিদটির দেয়াল প্রায় চার ফুট পুরু। লাল পোড়ামাটির ইট, সুরকি ও চুনের গাঁথুনিতে তৈরি এ স্থাপনায় রয়েছে তিনটি খিলানাকৃতির প্রবেশপথ, তিনটি মেহরাব, গ্রানাইট পাথরের স্তম্ভ এবং পোড়ামাটির নান্দনিক অলংকরণ।প্রায় ৫৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে নামাজের ধারা বন্ধ হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

আড়ও পড়ুন,রাজাপুরে প্রথমবার মাদকবিরোধী মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

বর্তমানে মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে দুই শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। আর প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে সমাগম হয় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মুসল্লির।তবে সময়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিতে দেখা দিয়েছে ক্ষয়ের চিহ্ন।দেয়ালের বিভিন্ন অংশে শ্যাওলা, কোথাও ফাটল। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে সংস্কার ও রং করা হয়েছিল। এরপর বড় ধরনের সংস্কার হয়নি।১৯৪৮ সাল থেকে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ফলে মসজিদ কমিটিও নিজেদের উদ্যোগে বড় ধরনের সংস্কার করতে পারছে না।স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ করা না হলে কালের সাক্ষী এই স্থাপনার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তাই দাবি একটাই—ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন স্থাপত্যের এই নিদর্শনটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে নামাজের ধারা, এবার সংরক্ষণের দাবি
0:00 0:00
1.0x