২৮ বছর বয়সেই ক্লাবহীন হয়ে পড়েছেন ব্রুনাইয়ের রাজপরিবারের সদস্য ফাইক বলকিয়াহ। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধনী খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে পরিচিত হলেও মাঠের ক্যারিয়ার এখন বড় এক অনিশ্চয়তার মুখে।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ক্লাব রাতচাবুরির সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে চুক্তি না হওয়ায় বর্তমানে তিনি ফ্রি এজেন্ট।
ফাইকের পরিচিতির সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্য তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার নয় বরং পারিবারিক পরিচয়। তিনি ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহর ভাতিজা এবং রাজপরিবারের সদস্য। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পদের কথা উল্লেখ করে ফাইককে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবলার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এই বিশাল অঙ্ককে তাঁর নিজের যাচাইকৃত ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
১৯৯৮ সালের ৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম ফাইকের। শৈশব থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল পেশাদার ফুটবলার হওয়া। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠার সময় তিনি এএফসি নিউবারি এবং পরে সাউদাম্পটন চেলসি ও লেস্টার সিটির একাডেমিতে খেলেছেন। লেস্টার সিটির একাডেমিতে কয়েক বছর থাকার পর ২০২০ সালে পর্তুগালের মারিতিমোতে যোগ দেন। সেখানে অবশ্য প্রথম দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
এরপর থাইল্যান্ডে গিয়ে তাঁর পেশাদার ফুটবলে খেলার সুযোগ বাড়ে। ২০২১ সালে চনবুড়িতে যোগ দেন এবং পরে রাতচাবুরির হয়ে খেলেন। থাইল্যান্ডের ফুটবলে নিয়মিত সুযোগ পেলেও ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর ক্যারিয়ার আর এগোয়নি।
আড়ও পড়ুন,চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবসর নিলেন মার্ক উড
জাতীয় দলের ক্ষেত্রে অবশ্য ফাইক ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ব্রুনাইকে বেছে নেন এবং দেশটির জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন।
অর্থাৎ একদিকে রাজপরিবারের বিপুল সম্পদের পরিচয় অন্যদিকে পেশাদার ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কঠিন লড়াই—ফাইক বলকিয়াহর গল্পটা ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী গল্প। এখন ২৮ বছর বয়সে নতুন কোনো ক্লাবে তাঁর পরবর্তী অধ্যায় কোথায় শুরু হবে সেটিই দেখার বিষয়।
মতামত