শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন
ক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ জ্বর। শরীরের তাপমাত্রা ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে শরীর ও মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং ত্বকে লালচে দাগ বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

জ্বর হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। এ সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম বা দৌড়াদৌড়ি এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস ও খাবার স্যালাইনসহ তরল খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।ডেঙ্গুতে জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। তবে নিজে থেকে আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এসব ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেশি জ্বর হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে।

আড়ও পড়ুন,কাহালুতে ডোবা থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

ডেঙ্গু হলে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে রোগীর অবস্থা বোঝা যায় না। রক্তচাপ, নাড়ির গতি, রক্তক্ষরণের লক্ষণ, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্লাটিলেট কম দেখলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, কিছু খেতে বা পান করতে না পারা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসা, রক্তক্ষরণ কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। গুরুতর ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকেও মশারির মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য মানুষকে কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে বেশি সক্রিয় থাকে। বাড়ির ছাদ, বারান্দার ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার বা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি।

বিষয় : ডেঙ্গু সতর্ক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ জ্বর। শরীরের তাপমাত্রা ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে শরীর ও মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং ত্বকে লালচে দাগ বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

জ্বর হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। এ সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম বা দৌড়াদৌড়ি এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস ও খাবার স্যালাইনসহ তরল খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।ডেঙ্গুতে জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। তবে নিজে থেকে আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এসব ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেশি জ্বর হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে।

আড়ও পড়ুন,কাহালুতে ডোবা থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

ডেঙ্গু হলে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে রোগীর অবস্থা বোঝা যায় না। রক্তচাপ, নাড়ির গতি, রক্তক্ষরণের লক্ষণ, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্লাটিলেট কম দেখলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, কিছু খেতে বা পান করতে না পারা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসা, রক্তক্ষরণ কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। গুরুতর ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকেও মশারির মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য মানুষকে কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে বেশি সক্রিয় থাকে। বাড়ির ছাদ, বারান্দার ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার বা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন
0:00 0:00
1.0x