পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ইউরোপগামী ভারতীয় উড়োজাহাজগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ফ্লাইটের সময় ও জ্বালানি ব্যয় দুটোই বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ হিসেবে চীনের সিনকিয়াং অঞ্চলের হোটান এলাকার আকাশপথ ব্যবহারের বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে ভারত। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দিন পর ভারতও পাকিস্তানের উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বিকল্প দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে ইস্তাম্বুল যেতে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করা না গেলে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট সময় লাগতে পারে। অথচ পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করা গেলে একই যাত্রায় সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ৭ মিনিটে নেমে আসত। ফলে বিকল্প হিসেবে হোটানের আকাশপথ ব্যবহারের বিষয়টি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়া।
আড়ও পড়ুন,নাশকতায় গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ
অতিরিক্ত জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়ের কারণে সংস্থাটির ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী কয়েকটি ফ্লাইটে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। হোটান হয়ে উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়া গেলে সময় ও পরিচালন ব্যয় কমতে পারে বলে মনে করছে ভারতীয় বিমান খাত। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। হোটান চীনের সিনকিয়াং অঞ্চলে অবস্থিত, যা ভৌগোলিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত রুটে ভারতীয় বিমানকে লাদাখের দিক দিয়ে চীনা আকাশসীমায় প্রবেশ করে হোটান অতিক্রম করে মধ্য এশিয়ার দিকে যেতে হবে। এ ছাড়া অঞ্চলটির দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিমানবন্দরের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে। ফলে বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার বিষয়ও চীনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মধ্যেই ভারত-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগও ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হোটান আকাশপথ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত হোটান আকাশপথ ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা কোন পর্যায়ে যায় এবং চীন ভারতীয় বিমানকে এই রুট ব্যবহারের অনুমতি দেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মতামত