মুন্সিগঞ্জে বাসা থেকে এক কাজিকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির দুই লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কাজি মো. হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, সোমবার বেলা দুইটার দিকে মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার বাসা থেকে তাকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তার কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে কাজির লাইসেন্স বাতিল এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে হাবিবুর রহমান টাকা দিতে রাজি হলে তাকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন,কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ
সেখানে তার হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তুলে স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে রাজিব হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তসলিমউদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার পর রাজিবসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসানের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়তে পারে বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর রাজিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল। মঙ্গলবার দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। পুলিশ বলছে, মামলার বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত