যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন,বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশ্বনেতাদের চাপ বাড়ানোর আহ্বান
অ্যাক্সিওসের সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছে। ওয়াশিংটন সহজ কিংবা কঠিন যেকোনো উপায়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সাময়িক যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে পড়েছে। সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানির দাম। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক অভিযান না চালানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা কতটা সফল হবে এবং এর মাধ্যমে সংঘাতের স্থায়ী অবসান সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মতামত