শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

মহালয়ার সেই বিতর্কিত অধ্যায়, কেন উত্তমকুমারের কণ্ঠে মন ভরেনি বাঙালির


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

মহালয়ার সেই বিতর্কিত অধ্যায়, কেন উত্তমকুমারের কণ্ঠে মন ভরেনি বাঙালির
উত্তমকুমারের কণ্ঠে মন ভরেনি বাঙালির

মহালয়ার ভোর। রেডিওতে বেজে উঠেছে দুর্গাপূজার আগমনী। কিন্তু চেনা কণ্ঠ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বদলে শোনা গেল মহানায়ক উত্তমকুমারের কণ্ঠ। গানেও ছিলেন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোসলে ও মান্না দের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা। সংগীত পরিচালনায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। এত আয়োজন সত্ত্বেও শ্রোতাদের মন জয় করতে পারেনি নতুন অনুষ্ঠান। ঘটনাটি ১৯৭৬ সালের। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র পরিবর্তে সেবার আকাশবাণী প্রচার করে ‘দেবীং দুর্গতিহারিণীম্’। কিন্তু মহালয়ার ভোরে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের পরই শ্রোতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বেতার কেন্দ্রে আসতে থাকে ক্ষুব্ধ টেলিফোন ও আপত্তির চিঠি। পত্রপত্রিকায়ও প্রকাশিত হয় সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত শ্রোতাদের আবেগের কাছে ফিরতে হয় আকাশবাণীকে। ওই বছর দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন আবার প্রচার করা হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। 

আরও পড়ুন,গ্লুকোজ বিস্কুটে মাখন মেখে খেতেন অজয় দেবগন

১৯৩২ সালে বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজকুমার মল্লিকের সংগীত পরিচালনা এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের শ্লোকপাঠের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠানটির নাম হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাঙালির দুর্গাপূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ১৯৭৬ সালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে উত্তমকুমারকে এবং পঙ্কজকুমার মল্লিকের পরিবর্তে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে উত্তমকুমার নিজেও এই প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। তিনি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সঙ্গে দেখা করে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ তাঁকে উৎসাহ দিলেও শ্রোতারা নতুন আয়োজন গ্রহণ করেননি। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে পরিচালক সৌমিক সেনের চলচ্চিত্র ‘মহালয়া’। ছবিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে শুভাশিস মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত।

ছবিটিতে একজন শিল্পীর আত্মমর্যাদা, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত এবং বাঙালির দীর্ঘদিনের আবেগ সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের সংযত অভিনয় ছবির অন্যতম আকর্ষণ।

১৯৭৬ সালের সেই ঘটনা প্রমাণ করেছিল, জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি থাকলেই মানুষের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা বদলে দেওয়া যায় না। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ তাই শুধু একটি বেতার অনুষ্ঠানের অংশ নয়, বাঙালির শারদীয় স্মৃতি ও ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিষয় : বাঙালি মহালয়া বিতর্কিত

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


মহালয়ার সেই বিতর্কিত অধ্যায়, কেন উত্তমকুমারের কণ্ঠে মন ভরেনি বাঙালির

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মহালয়ার ভোর। রেডিওতে বেজে উঠেছে দুর্গাপূজার আগমনী। কিন্তু চেনা কণ্ঠ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বদলে শোনা গেল মহানায়ক উত্তমকুমারের কণ্ঠ। গানেও ছিলেন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোসলে ও মান্না দের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা। সংগীত পরিচালনায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। এত আয়োজন সত্ত্বেও শ্রোতাদের মন জয় করতে পারেনি নতুন অনুষ্ঠান। ঘটনাটি ১৯৭৬ সালের। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র পরিবর্তে সেবার আকাশবাণী প্রচার করে ‘দেবীং দুর্গতিহারিণীম্’। কিন্তু মহালয়ার ভোরে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের পরই শ্রোতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বেতার কেন্দ্রে আসতে থাকে ক্ষুব্ধ টেলিফোন ও আপত্তির চিঠি। পত্রপত্রিকায়ও প্রকাশিত হয় সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত শ্রোতাদের আবেগের কাছে ফিরতে হয় আকাশবাণীকে। ওই বছর দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন আবার প্রচার করা হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। 

আরও পড়ুন,গ্লুকোজ বিস্কুটে মাখন মেখে খেতেন অজয় দেবগন

১৯৩২ সালে বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজকুমার মল্লিকের সংগীত পরিচালনা এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের শ্লোকপাঠের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠানটির নাম হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাঙালির দুর্গাপূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ১৯৭৬ সালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে উত্তমকুমারকে এবং পঙ্কজকুমার মল্লিকের পরিবর্তে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে উত্তমকুমার নিজেও এই প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। তিনি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সঙ্গে দেখা করে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ তাঁকে উৎসাহ দিলেও শ্রোতারা নতুন আয়োজন গ্রহণ করেননি। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে পরিচালক সৌমিক সেনের চলচ্চিত্র ‘মহালয়া’। ছবিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে শুভাশিস মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত।

ছবিটিতে একজন শিল্পীর আত্মমর্যাদা, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত এবং বাঙালির দীর্ঘদিনের আবেগ সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের সংযত অভিনয় ছবির অন্যতম আকর্ষণ।

১৯৭৬ সালের সেই ঘটনা প্রমাণ করেছিল, জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি থাকলেই মানুষের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা বদলে দেওয়া যায় না। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ তাই শুধু একটি বেতার অনুষ্ঠানের অংশ নয়, বাঙালির শারদীয় স্মৃতি ও ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মহালয়ার সেই বিতর্কিত অধ্যায়, কেন উত্তমকুমারের কণ্ঠে মন ভরেনি বাঙালির
0:00 0:00
1.0x