ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে রাজধানীর হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরে যান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। এ সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে উন্নতির নির্দেশ দেন তিনি। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা আইসিইউ, অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি উন্নত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
আরও পড়ুন,সৌদির ফ্লাইটে বিঘ্ন ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে
নিজেদের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সবার। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশাল জনবহুল শহর। সিটি করপোরেশন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একার পক্ষে পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন। তাই নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে এবং কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাঁকে সচেতন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা ডাস্টবিন চুরি এবং সিটি করপোরেশনের লাগানো গাছের চারা তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বন্ধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শও দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গাছপালা বাড়লে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং রাজধানীর তাপমাত্রা কমাতেও সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের বাসা, স্কুল ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সহযোগিতা চান। শিক্ষার্থীরাও এতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মতামত