ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত। রোববার ১৮ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টি। শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। গণভোটের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মতপার্থক্য ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত চেয়েছিল নির্বাচন থেকে আগে গণভোট আয়োজন করা হোক, যাতে বিষয়টি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন,সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত
বিরোধীদলীয় নেতা আরও অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্য বরাদ্দ পাননি বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিরোধী দলের সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ সময় তিনি মহিষের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও তুলে ধরে সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হবে বলে মানুষ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে অটল থাকবে। তাঁর ভাষ্য, সরকারকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিলেও সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে তাদের লক্ষ্য।
মতামত