সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি চাওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেছে দলটি। একই সঙ্গে আইজিপিকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় এনসিপি। দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানার সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির এ ধরনের বক্তব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ তৈরি করতে পারে এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের বেআইনি বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করতে পারে। এর আগে সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন, সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ তা করবে। তাঁর এ বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, সরকারের অনুমোদন বা সম্মতির অজুহাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। দলটির মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা আড়াল করতে ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ সামনে আনা পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রকাশ।
আরও পড়ুন,তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে যুবদল: রিজভী
বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপি অভিযোগ করেছে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে আইজিপির বক্তব্য সাংঘর্ষিক। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি দলটির। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরে এনসিপি। দলটির বক্তব্য, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া উদ্বেগজনক। প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। এনসিপি আরও বলেছে, সরকারের কোনো বেআইনি নির্দেশ পালন করতে পুলিশ বাধ্য নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে বেআইনি চর্চা থেকে বের করে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। বিবৃতিতে বর্তমান আইজিপিকে অবিলম্বে অপসারণের পাশাপাশি জুলাই সনদের আলোকে দ্রুত একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
মতামত