শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, আদর্শিক নেতৃত্ব গঠন এবং শ্রমিক আন্দোলনকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার শহীদ মুন্সি ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত দিনব্যাপী নেতৃত্ব উন্নয়ন শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে থানা ও সেক্টর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আরও পড়ুন,চিফ হুইপের বক্তব্যের নিন্দা জানাল জামায়াততিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাঁদের নৈতিক ও আদর্শিক উন্নয়নেও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে আদর্শের প্রচার করতে হলে দায়িত্বশীলদের নিজেদের জীবন ও কর্মে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের সমস্যা, অধিকার ও প্রত্যাশা জানতে হবে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক নেতৃত্বকে সৎ, দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী ও শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। অন্যায়-অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রামের শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল শ্রমিক আন্দোলন প্রয়োজন। ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ শিবিরে জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আয়োজনে মহানগর, থানা, সেক্টর, মহিলা বিভাগ ও ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিক নেতারা প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।

অধিকার সুরক্ষিত থাকলে সমর্থন জানাবেন হিন্দুরা: সালাহউদ্দিন

হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যে সময়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, সে সময় বিবেচনা করেই তাঁদের নিজেদের সমর্থন নির্ধারণ করা উচিত। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। যে সময়ে তাঁরা সর্বোচ্চ স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ পাবেন, সেই সময়কে তাঁরা সমর্থন জানাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবার দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ছুটির ব্যবস্থা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ সময় ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোটও এবার সর্বোচ্চ হয়েছে, তবে আবারও হবে। তাঁর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক ইঙ্গিত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ব্যবহার করে অনেকে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তাঁদেরই বিচার করতে হবে কোন সময়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। আরও পড়ুন,চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাসধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। প্রত্যেকের উচিত অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আয়োজনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সরকার এ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন, আগামী বছরগুলোতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বনানী পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা ও আয়োজনের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আয়োজকসহ সবার মঙ্গল, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, কঠিন অন্ধকারের পর আলোর জয় হয়। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অন্ধকার সময় পেরিয়ে দেশবাসীর বিজয়ের কথাও তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেন, মা দুর্গা অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য দূর করার প্রতীক। বাংলাদেশ পুলিশও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায়। অনুষ্ঠানে নেপাল, ভ্যাটিকান, সুইডেন, নরওয়ে ও ক্যামেরুনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজেদের শুভেচ্ছা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন।

অধিকার সুরক্ষিত থাকলে সমর্থন জানাবেন হিন্দুরা: সালাহউদ্দিন