রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আসিফ মাহমুদের সম্পদের খোঁজে দুদক

আসিফ মাহমুদের সম্পদের খোঁজে দুদক

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক।বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউর কাছে পাঠানো চিঠিতে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদ, বিনিয়োগ ও অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্রের তথ্যও চেয়েছে দুদক।আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।বিদেশে সম্পদ, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পেতে বিএফআইইউর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।অভিযোগে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ ও অর্থ স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,নিরাপদ অভিবাসনে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার পাঁচ দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে।এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।পরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসক পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিভিন্ন নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসে।অন্যদিকে, দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন তিনি।দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ে আমলযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি

জুলাই আন্দোলনের পর আলোচনায় উঠে আসা সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট তার ব্যাংক হিসাব তলবের পর নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আরও সামনে আসে।গত ৪ মার্চ ব্যাংক হিসাব তলবের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান তার নিজের দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি সঞ্চয়ী হিসাবে ছিল ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। আর সরকারি দায়িত্ব পালনকালে খোলা বেতন হিসাবটিতে বেতন ভাতা ও বিদেশ সফরের টিএ-ডিএসহ মোট ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা জমা এবং ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা উত্তোলন হয়েছে বলে জানান তিনি। দুটি হিসাব মিলিয়ে তার কাছে ছিল ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ছিল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। মায়ের একটি হিসাবে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর একটি হিসাবে ৬১৩ টাকা থাকার কথাও জানান তিনি।এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ জমা পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লেনদেন টেন্ডার বাণিজ্য পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ।ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগেও বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগও এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি টেন্ডার ও প্রকল্পের কার্যাদেশ থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে।এছাড়া জেলা প্রশাসক নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে নাতবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালত বা কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়নি।আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদের বাবার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়া এবং পরে সেটি বাতিল করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে আসিফ মাহমুদের সম্পদ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ এবং দুবাইয়ে সম্পদ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি।সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানও অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে কি না এখন সেদিকেই নজর।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি