আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক।বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউর কাছে পাঠানো চিঠিতে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদ, বিনিয়োগ ও অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্রের তথ্যও চেয়েছে দুদক।আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।বিদেশে সম্পদ, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পেতে বিএফআইইউর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।অভিযোগে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ ও অর্থ স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,নিরাপদ অভিবাসনে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার
পাঁচ দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে।এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।পরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসক পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিভিন্ন নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসে।অন্যদিকে, দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন তিনি।দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ে আমলযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
মতামত