জুলাই আন্দোলনের পর আলোচনায় উঠে আসা সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট তার ব্যাংক হিসাব তলবের পর নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আরও সামনে আসে।গত ৪ মার্চ ব্যাংক হিসাব তলবের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান তার নিজের দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি সঞ্চয়ী হিসাবে ছিল ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। আর সরকারি দায়িত্ব পালনকালে খোলা বেতন হিসাবটিতে বেতন ভাতা ও বিদেশ সফরের টিএ-ডিএসহ মোট ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা জমা এবং ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা উত্তোলন হয়েছে বলে জানান তিনি। দুটি হিসাব মিলিয়ে তার কাছে ছিল ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ছিল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। মায়ের একটি হিসাবে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর একটি হিসাবে ৬১৩ টাকা থাকার কথাও জানান তিনি।এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ জমা পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লেনদেন টেন্ডার বাণিজ্য পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ।ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগেও বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগও এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি টেন্ডার ও প্রকল্পের কার্যাদেশ থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে।এছাড়া জেলা প্রশাসক নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালত বা কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়নি।আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদের বাবার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়া এবং পরে সেটি বাতিল করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে আসিফ মাহমুদের সম্পদ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ এবং দুবাইয়ে সম্পদ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি।সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানও অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে কি না এখন সেদিকেই নজর।
মতামত