শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

মৎস্য অধিদফতরের ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বা এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি ইলিশ আমদানির অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের একটি চিঠি তাদের কাছে এসেছে। ওই চিঠিতে একাধিক অনাপত্তি সনদ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে এবং এ সিদ্ধান্তে আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন।আড়ও পড়ুন,ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে টাকা আমদানি রপ্তানি নিষ্পত্তির সুযোগ ইলিশ আমদানিকারক সৈয়্যদ মহিদুল হক রুবাই বলেন হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতের অংশে ইতোমধ্যে যেসব ইলিশ কেনা হয়েছিল সেগুলো এখন কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা এতে শুধু কেনাবেচার ক্ষেত্রেই নয় আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য খরচেও লোকসান গুনতে হবে। কারণ সীমান্তের ওপারে ইলিশ কেনার পাশাপাশি পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। ফলে মৎস্য অধিদফতরের ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আনার পুরো প্রক্রিয়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানিকারকদের পাশাপাশি ইলিশের আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যও নতুন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

দীর্ঘদিনের হতাশার পর এক জালেই ১০০ মণ ইলিশ

মাত্র দুই ঘণ্টা জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ! জাল তুলতে গিয়ে দেখা গেল পুরো জালজুড়েই রুপালি ইলিশ। এত মাছ যে, জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই হিমশিম খেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে ফেরে এফবি নাজমা। মাছ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকায়। দীর্ঘদিনের হতাশার পর একসঙ্গে এত মাছ পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মাঝে।গভীর সাগর থেকে ঘাটে ফিরেছে মাছভর্তি এফবি নাজমা। রোববার সকালে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে ট্রলারটি ভিড়তেই শুরু হয় মাছ নামানোর ব্যস্ততা।ট্রলারের মাঝি বাপ্পি মিয়ার ভাষ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পাথরঘাটা থেকে যাত্রা করেন তাঁরা। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাগরে জাল ফেলেন। মাত্র দুই ঘণ্টা পর জাল তুলতেই দেখা যায়—জালজুড়ে রুপালি ইলিশ।বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই বেগ পেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরে ট্রলারটি।“দুই ঘণ্টার মতো জাল ফেলার পর যখন জাল তুলেছি, তখন দেখি পুরো জাল ইলিশে ভরা। এত মাছ হয়েছে যে জাল থেকে মাছ ছাড়াতেই কষ্ট হয়েছে।আড়ও পড়ুন,অপ্রতীম হত্যা: মোবাইল উদ্ধারের পর হত্যার বর্ণনা দিল পুলিশট্রলার মালিক এনামুল হোসাইন জানান, মাছগুলো প্রতি মণ ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন তাঁরা। তবে মাছের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম হয়েছে। আকার বড় হলে একই পরিমাণ মাছ আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারত বলে জানান তিনি।“এবার মাছ না পাওয়ায় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। একসঙ্গে এত মাছ পাওয়ায় আমরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।”পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার সমিতির সভাপতি সগীর আলম বলছেন, চলতি ইলিশ মৌসুমে এ এলাকায় এক ট্রলারে ১০০ মণ ইলিশ পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।দীর্ঘদিন মাছের দেখা না পেয়ে লোকসানে থাকা ট্রলার মালিক ও জেলেদের মাঝেও ফিরেছে নতুন আশা। এফবি নাজমার জালে বিপুল ইলিশ ধরা পড়ার পর ঘাটে থাকা অন্য জেলে ও ট্রলার মালিকরাও গভীর সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দীর্ঘদিনের হতাশার পর এক জালেই ১০০ মণ ইলিশ