শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ইলিশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে এমপিদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

ইলিশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে এমপিদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে দেশের ৩৮টি জেলার ১১১ জন সংসদ সদস্যকে ডিও লেটার বা আধা-সরকারি পত্র দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ। রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে এসব নির্দেশনা পাঠানো হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। ডিও লেটারে আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মৎস্যসম্পদ এবং ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পুষ্টিনিরাপত্তা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ইলিশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পদের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, অভিযান চলাকালে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও আইনত নিষিদ্ধ।আরও পড়ুন,দুর্নীতির মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানপ্রধানইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিও লেটারে তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের মতো জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের আশা, জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আরও কার্যকর হবে। এতে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

মৎস্য অধিদফতরের ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বা এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি ইলিশ আমদানির অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের একটি চিঠি তাদের কাছে এসেছে। ওই চিঠিতে একাধিক অনাপত্তি সনদ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে এবং এ সিদ্ধান্তে আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন।আড়ও পড়ুন,ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে টাকা আমদানি রপ্তানি নিষ্পত্তির সুযোগ ইলিশ আমদানিকারক সৈয়্যদ মহিদুল হক রুবাই বলেন হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতের অংশে ইতোমধ্যে যেসব ইলিশ কেনা হয়েছিল সেগুলো এখন কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা এতে শুধু কেনাবেচার ক্ষেত্রেই নয় আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য খরচেও লোকসান গুনতে হবে। কারণ সীমান্তের ওপারে ইলিশ কেনার পাশাপাশি পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। ফলে মৎস্য অধিদফতরের ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আনার পুরো প্রক্রিয়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানিকারকদের পাশাপাশি ইলিশের আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যও নতুন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

দীর্ঘদিনের হতাশার পর এক জালেই ১০০ মণ ইলিশ

মাত্র দুই ঘণ্টা জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ! জাল তুলতে গিয়ে দেখা গেল পুরো জালজুড়েই রুপালি ইলিশ। এত মাছ যে, জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই হিমশিম খেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে ফেরে এফবি নাজমা। মাছ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকায়। দীর্ঘদিনের হতাশার পর একসঙ্গে এত মাছ পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মাঝে।গভীর সাগর থেকে ঘাটে ফিরেছে মাছভর্তি এফবি নাজমা। রোববার সকালে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে ট্রলারটি ভিড়তেই শুরু হয় মাছ নামানোর ব্যস্ততা।ট্রলারের মাঝি বাপ্পি মিয়ার ভাষ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পাথরঘাটা থেকে যাত্রা করেন তাঁরা। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাগরে জাল ফেলেন। মাত্র দুই ঘণ্টা পর জাল তুলতেই দেখা যায়—জালজুড়ে রুপালি ইলিশ।বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই বেগ পেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরে ট্রলারটি।“দুই ঘণ্টার মতো জাল ফেলার পর যখন জাল তুলেছি, তখন দেখি পুরো জাল ইলিশে ভরা। এত মাছ হয়েছে যে জাল থেকে মাছ ছাড়াতেই কষ্ট হয়েছে।আড়ও পড়ুন,অপ্রতীম হত্যা: মোবাইল উদ্ধারের পর হত্যার বর্ণনা দিল পুলিশট্রলার মালিক এনামুল হোসাইন জানান, মাছগুলো প্রতি মণ ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন তাঁরা। তবে মাছের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম হয়েছে। আকার বড় হলে একই পরিমাণ মাছ আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারত বলে জানান তিনি।“এবার মাছ না পাওয়ায় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। একসঙ্গে এত মাছ পাওয়ায় আমরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।”পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার সমিতির সভাপতি সগীর আলম বলছেন, চলতি ইলিশ মৌসুমে এ এলাকায় এক ট্রলারে ১০০ মণ ইলিশ পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।দীর্ঘদিন মাছের দেখা না পেয়ে লোকসানে থাকা ট্রলার মালিক ও জেলেদের মাঝেও ফিরেছে নতুন আশা। এফবি নাজমার জালে বিপুল ইলিশ ধরা পড়ার পর ঘাটে থাকা অন্য জেলে ও ট্রলার মালিকরাও গভীর সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দীর্ঘদিনের হতাশার পর এক জালেই ১০০ মণ ইলিশ