শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ, ৩৫ বছরের পর সুযোগ সীমিত হতে পারে

আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ, ৩৫ বছরের পর সুযোগ সীমিত হতে পারে

আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৩৫ বছর বয়সের পর নতুন করে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্ধারিত বয়স অতিক্রম করার পর আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ সীমিত হতে পারে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর আইন পেশায় প্রবেশে আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে বয়সসীমা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন কিংবা অন্য পেশায় যুক্ত থাকার পর আইনজীবী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য এ উদ্যোগের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আরও পড়ুন,আদাবরে ১৯২ অ্যাপার্টমেন্ট, তেজগাঁওয়ে ৫১ বাণিজ্যিক ইউনিট নির্মাণ হচ্ছে শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পতবে ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কী ধরনের আইনগত বা নীতিগত পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। প্রস্তাবটি কবে নাগাদ কার্যকর হতে পারে, বর্তমান আইন অনুযায়ী আইনজীবী হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কী বিধান প্রযোজ্য হবে, কিংবা কোনো ব্যতিক্রম রাখা হবে কি না এসব বিষয়েও স্পষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এ কারণে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে আপাতত সরকারের উদ্যোগের ঘোষণা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট বিধি বা আইন সংশোধন এবং কার্যকর হওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আইনজীবী হতে আগ্রহীদের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নপদ্ধতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

যুদ্ধ অবসানে বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছে ইরান বললেন পুতিন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, সংঘাতের অবসানে সহায়তা করতে রাশিয়া তার সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত। আল জাজিরার শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর কমনওয়েলথ বা সিআইএসের শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে তারা সেখানে মিলিত হন। শুক্রবার সম্মেলনটি শুরু হওয়ার কথা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির অবসানে সহায়তা করতে মস্কো তার সামর্থ্যের মধ্যে যা কিছু সম্ভব, তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধে তেহরান বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আরও পড়ুন,আব্রাহাম লিংকনের ৩২১ দিনের অভিযান নিয়ে নতুন আলোচনাএদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা থেকে সরে আসবে না তেহরান। আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে ইরান আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখনই আলোচনা শুরু হয়, তখনই নতুন করে হামলা চালানো হয়। তা সত্ত্বেও ইরান আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাবে না। সংলাপ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে তেহরান। পুতিনের এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার কূটনৈতিক ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুদ্ধ অবসানে বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছে ইরান বললেন পুতিন

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের নাম ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ

ভারতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং বুথ লেভেল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাদ পড়া ভোটারদের যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার প্রকাশ্যে আসা নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁদের মধ্যে প্রকৃত ও বৈধ ভোটারদের শনাক্ত করতে আগের ও বর্তমান তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। মৃত, স্থানান্তরিত এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাম কী কারণে বাদ পড়েছে, তা পর্যালোচনা করা হবে। কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু ভোটারদের আবেদনের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। আড়ও পড়ুন,চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও সক্রিয়ভাবে খুঁজে দেখতে হবে, কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে কি না। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম-৬ পূরণ করিয়ে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রতিবাদ চলছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসআইআর হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব নামের মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত, একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত এবং কথিত অবৈধ ভোটারদের নাম রয়েছে। তবে বিরোধীদের মূল আপত্তি, বৈধ নাগরিকদের নামও বাদ পড়ে থাকতে পারে। ভোটারসংখ্যার পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫ কোটি ২০ লাখ। আড়ও পড়ুন,খসড়া তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ কোটি ৭৯ লাখে। যদিও নাম বাদ পড়া প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থা ও যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রভাব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি কতজনের নাম কোন কারণে বাদ গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশের দাবিও উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে কতজন ভোটার তালিকায় ফিরতে পারবেন, তা যাচাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের নাম ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ

রূপালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সম্প্রতি ফরিদপুর জেলা সদরের এসডিসি টাওয়ার মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।সভায় ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি এবং শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. মইনুদ্দিন মাসুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল হক।আড়ও পড়ুন,ব্যাংকিং থেকে মোবাইল ফোন ১১ খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্নএতে ফরিদপুর বিভাগের আওতাধীন তিনটি জোনাল অফিসের জোনাল ম্যানেজার, ৩৫টি শাখার ব্যবস্থাপক এবং তিনটি উপ-শাখার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় বিভাগের সার্বিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ জোরদার, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ত্বরান্বিতকরণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাদের অর্থায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।পাশাপাশি রূপালী ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে রূপালী ক্যাশ, রূপালী ই-ব্যাংকিং অ্যাপ, বাংলা কিউআর এবং সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মতো আধুনিক সেবাগুলো গ্রাহকদের কাছে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

সংবিধান সংস্কারে সংসদীয় উদ্যোগ, মত দেবে জুলাই সনদে সই করা দলগুলো

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে আজ মতবিনিময়ে বসছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক। এতে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।দল ও জোটগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আলোচনায় সংবিধান সংশোধন বিষয়ে দলগুলোর মতামত জানতে চাওয়া হবে।তবে এই মতবিনিময়ে অংশ না নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপিসহ কয়েকটি দল। তাদের বক্তব্য, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন ছিল। সেই পরিষদ গঠন না করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নিতে চায় না।এর আগে গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।আড়ও পড়ুন,১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে রিজভী তারই ধারাবাহিকতায় আজকের মতবিনিময়।জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।একদিকে বিশেষ কমিটি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে মতামত নিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপিসহ কয়েকটি দল গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।ফলে আজকের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মতামতের পাশাপাশি যারা থাকছে না, তাদের অবস্থানও সামনে আসবে।এখন দেখার বিষয়, মতপার্থক্যের মধ্যেও সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো নতুন সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয় কি না।

সংবিধান সংস্কারে সংসদীয় উদ্যোগ, মত দেবে জুলাই সনদে সই করা দলগুলো

বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুতে বড় উদ্যোগ

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্য রাখা হয়েছে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।সার্কুলারে বলা হয়েছে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের’ মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়ন সরবরাহ করবে।নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে। তবে অর্থ পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এই সুদ পরিশোধ করতে হবে না। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে।অন্যদিকে স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে তার সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও থাকছে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড। আড়ও পড়ুন,আইসিসিবিতে আবারও জমছে গাড়ির বাজারঅর্থাৎ ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস কোনো সুদ আদায় করা যাবে না।ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ঋণের সুদ আদায় শুরু হবে। এ সময় প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও নির্ধারিত নিয়মে আদায় করতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে স্কিমের মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে।স্কিমের অর্থ নির্ধারিত খাতে যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের ব্যবহার ও আদায়ের পরিস্থিতি নিয়মিত তদারক করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাবও নিষ্পত্তি করতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখিত নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুতে বড় উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নমিনি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। বর্তমানে এ সুবিধার বয়সসীমা ৭৫ বছর।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তার মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে এই সুবিধা ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছিল।এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা পরে নির্ধারণ করা হবে।আড়ও পড়ুন,আসিফ মাহমুদের সম্পদের খোঁজে দুদকবিদেশগামী কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এর কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের পর এই স্কিম চালু করা হবে।তবে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি অ্যাকচুয়ারিয়াল পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আবার পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হতে পারে।সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দেওয়া হলে তহবিলের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে অ্যাকচুয়ারিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন মডেলে এটি চালু করা হবে এবং এতে তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।অন্যদিকে পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হলে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সেটিও অনুমোদন পায়নি।সর্বজনীন পেনশনে নতুন নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। আগে একজনকে নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।এ ছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পেনশন সুবিধার বয়সসীমা বাড়ানো শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধনের মতো একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ