রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সংবিধান সংস্কারে সংসদীয় উদ্যোগ, মত দেবে জুলাই সনদে সই করা দলগুলো

সংবিধান সংস্কারে সংসদীয় উদ্যোগ, মত দেবে জুলাই সনদে সই করা দলগুলো

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে আজ মতবিনিময়ে বসছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক। এতে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।দল ও জোটগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আলোচনায় সংবিধান সংশোধন বিষয়ে দলগুলোর মতামত জানতে চাওয়া হবে।তবে এই মতবিনিময়ে অংশ না নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপিসহ কয়েকটি দল। তাদের বক্তব্য, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন ছিল। সেই পরিষদ গঠন না করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নিতে চায় না।এর আগে গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।আড়ও পড়ুন,১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে রিজভী তারই ধারাবাহিকতায় আজকের মতবিনিময়।জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।একদিকে বিশেষ কমিটি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে মতামত নিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপিসহ কয়েকটি দল গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।ফলে আজকের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মতামতের পাশাপাশি যারা থাকছে না, তাদের অবস্থানও সামনে আসবে।এখন দেখার বিষয়, মতপার্থক্যের মধ্যেও সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো নতুন সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয় কি না।

বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুতে বড় উদ্যোগ

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্য রাখা হয়েছে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।সার্কুলারে বলা হয়েছে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের’ মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়ন সরবরাহ করবে।নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে। তবে অর্থ পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এই সুদ পরিশোধ করতে হবে না। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে।অন্যদিকে স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে তার সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও থাকছে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড। আড়ও পড়ুন,আইসিসিবিতে আবারও জমছে গাড়ির বাজারঅর্থাৎ ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস কোনো সুদ আদায় করা যাবে না।ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ঋণের সুদ আদায় শুরু হবে। এ সময় প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও নির্ধারিত নিয়মে আদায় করতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে স্কিমের মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে।স্কিমের অর্থ নির্ধারিত খাতে যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের ব্যবহার ও আদায়ের পরিস্থিতি নিয়মিত তদারক করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাবও নিষ্পত্তি করতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখিত নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুতে বড় উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নমিনি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। বর্তমানে এ সুবিধার বয়সসীমা ৭৫ বছর।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তার মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে এই সুবিধা ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছিল।এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা পরে নির্ধারণ করা হবে।আড়ও পড়ুন,আসিফ মাহমুদের সম্পদের খোঁজে দুদকবিদেশগামী কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এর কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের পর এই স্কিম চালু করা হবে।তবে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি অ্যাকচুয়ারিয়াল পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আবার পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হতে পারে।সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দেওয়া হলে তহবিলের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে অ্যাকচুয়ারিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন মডেলে এটি চালু করা হবে এবং এতে তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।অন্যদিকে পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হলে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সেটিও অনুমোদন পায়নি।সর্বজনীন পেনশনে নতুন নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। আগে একজনকে নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।এ ছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পেনশন সুবিধার বয়সসীমা বাড়ানো শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধনের মতো একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ