পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এই কার্গো থেকে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ ঘনমিটার এলএনজি খালাস করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভরের সরবরাহ করা এটিই প্রথম কার্গো।যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গানভরের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৩ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর দেশে আসবে পাঁচটি এলএনজি কার্গো।মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ‘এলএনজি জেনেভা’ জাহাজে করে প্রথম কার্গোটি বাংলাদেশে পৌঁছেছে।এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসে।আড়ও পড়ুন,আটা ময়দা মুরগি ডিম ও মাছে বাড়তি দামপরপর দুটি কার্গো আসায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।চলতি মাসে মোট নয়টি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আরামকোর দুটি এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে চারটি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গো এসেছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো ২৩ সেপ্টেম্বর টোটালএনার্জি ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভর থেকে আরও চারটি কার্গো আসার কথা রয়েছে।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।রোববার অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৪তম সভায় এলএনজি কেনার বিষয়ে তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে দুটি কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এর মধ্যে একটি কার্গো আগামী ৯ থেকে ১০ অক্টোবর এবং অন্যটি ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর দেশে সরবরাহের কথা রয়েছে।প্রথম কার্গোটির জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার। যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড এই দর প্রস্তাব করেছে।অন্য কার্গোটির জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২৯ দশমিক ৭৯৫ মার্কিন ডলার।আড়ও পড়ুন,বিদেশে ভাষা শিখতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, দিচ্ছে সরকারএই দর প্রস্তাব করেছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড।এছাড়া সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনকরপোরেটেড থেকে আরও দুটি কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউ দাম পড়বে ১৭ মার্কিন ডলার।একই পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাইন্ড মিংগল এলএলসি থেকে আরও দুটি কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ মার্কিন ডলার।অর্থাৎ আন্তর্জাতিক কোটেশনে কেনা দুই কার্গোর তুলনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা চার কার্গোর এলএনজির দাম তুলনামূলকভাবে কম পড়ছে।সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৪তম সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এলএনজি ক্রয়সংক্রান্ত এই তিনটি প্রস্তাব অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মোট ছয় কার্গো এলএনজি কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেল।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।