শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কা

২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কা

যুদ্ধ, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাবে খরার আশঙ্কা সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এই চাপ তীব্র হতে পারে। এমনকি এর প্রভাব পুরো ২০২৭ সালজুড়েও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার ৬৩ বছর বয়সী পার্কিংকর্মী মুহাম্মদ ইয়াসিনের জীবনে এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট। আগে চাল, টেম্পে ও টোফু কিনতে যেখানে তাঁর খরচ হতো ৭ থেকে ৮ হাজার রুপিয়া, এখন একই খাবারের জন্য দিতে হচ্ছে ১৫ হাজার রুপিয়া। চার সন্তানের বাবা ইয়াসিনের সাপ্তাহিক আয় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ রুপিয়া। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে তাঁকে খাবারের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গম পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। লোহিত সাগরে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে। আরও পড়ুন,আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দামপাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে খরার আশঙ্কা যুক্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, এসব কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে। সংস্থাটির খাদ্যমূল্য সূচক গত সেপ্টেম্বরে ১৩৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এশিয়ার প্রধান চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধের ঝুঁকি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথে পণ্য পরিবহনের ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর খাদ্য সংগ্রহের খরচ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে বিভিন্ন দেশ আবার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যশস্য আমদানি বাড়ালে চাহিদার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। সয়াবিন ও ভুট্টার মজুত আপাতত পর্যাপ্ত থাকলেও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নির্ভর করবে প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর ফলনের ওপর। সব মিলিয়ে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগামী দিনগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মাগুরায় খাদ্য গুদামের সংস্কারকাজ বন্ধ কারিগরি মতামতের অপেক্ষা

মাগুরা শহরের ভায়না মোড় এলাকায় জেলা খাদ্য অফিসের পুরোনো খাদ্য গুদামের একটি কোয়ার্টারের পুনঃসংস্কারকাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।একাধিক সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করে কারিগরি মতামত না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।১৫ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিতভাবে কারিগরি মতামত চাওয়া হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, সংস্কারাধীন একটি কোয়ার্টারের লিন্টনের ওপরের প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এটি শুধু প্লাস্টারে নাকি গাঁথুনিতেও ফাটল রয়েছে তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে মতামত দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অবস্থায় লিন্টনের ওপর ছাদ দেওয়া নিরাপদ হবে কি না সে বিষয়েও প্রকৌশলগত মতামত চাওয়া হয়েছে।এর আগে সংস্কারকাজে পুরোনো ভবনের কাঠামোর ওপর নতুন ছাদ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় আরসিসি পিলার রিং বিম ও টাই বিমের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্মাণসামগ্রীর মান এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটলের বিষয়েও অভিযোগ করা হয়।মঙ্গলবার দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন।আড়ও পড়ুন,পুলিশের ওপর হামলার পর টঙ্গীতে অভিযান, গ্রেফতার ৭ এ সময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত সন্দীপ কুমার দাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সরেজমিনে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ কিছু স্থানে ফাটল থাকার পরও কাঠামোগত কারণ নিরূপণ না করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালিতে কাদা ও ময়লা থাকার পাশাপাশি প্লাস্টার ও কংক্রিটে যথাযথ কিউরিং না করার অভিযোগও রয়েছে।নির্মাণকাজে যুক্ত হেড রাজমিস্ত্রি মো. বাবু বিশ্বাসের দাবি রিং বিম ছাড়া ইটের দেয়ালের ওপর সরাসরি ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। রডের নিচে পর্যাপ্ত কভার ব্লক ব্যবহার না করা এবং সাটারিংয়ে ব্যবহৃত বাঁশের মান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেছেন ভবনের প্রকৃত অবস্থা নকশা ও প্রাক্কলন পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত সন্দীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর কাজ পরিদর্শন করে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ এবং কারিগরি দিক পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইফুল হাসান জোয়ারদার প্রায় ৬ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ টাকা চুক্তিমূল্যে বিভিন্ন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধা মেরামতের কাজ পেয়েছে।এখন প্রকৌশল বিভাগের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি মতামতের ওপরই মাগুরার এই সংস্কারকাজের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

মাগুরায় খাদ্য গুদামের সংস্কারকাজ বন্ধ কারিগরি মতামতের অপেক্ষা