মাগুরা শহরের ভায়না মোড় এলাকায় জেলা খাদ্য অফিসের পুরোনো খাদ্য গুদামের একটি কোয়ার্টারের পুনঃসংস্কারকাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।একাধিক সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করে কারিগরি মতামত না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।১৫ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিতভাবে কারিগরি মতামত চাওয়া হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, সংস্কারাধীন একটি কোয়ার্টারের লিন্টনের ওপরের প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এটি শুধু প্লাস্টারে নাকি গাঁথুনিতেও ফাটল রয়েছে তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে মতামত দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অবস্থায় লিন্টনের ওপর ছাদ দেওয়া নিরাপদ হবে কি না সে বিষয়েও প্রকৌশলগত মতামত চাওয়া হয়েছে।এর আগে সংস্কারকাজে পুরোনো ভবনের কাঠামোর ওপর নতুন ছাদ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় আরসিসি পিলার রিং বিম ও টাই বিমের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্মাণসামগ্রীর মান এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটলের বিষয়েও অভিযোগ করা হয়।মঙ্গলবার দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন।
আড়ও পড়ুন,পুলিশের ওপর হামলার পর টঙ্গীতে অভিযান, গ্রেফতার ৭
এ সময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত সন্দীপ কুমার দাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সরেজমিনে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ কিছু স্থানে ফাটল থাকার পরও কাঠামোগত কারণ নিরূপণ না করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালিতে কাদা ও ময়লা থাকার পাশাপাশি প্লাস্টার ও কংক্রিটে যথাযথ কিউরিং না করার অভিযোগও রয়েছে।নির্মাণকাজে যুক্ত হেড রাজমিস্ত্রি মো. বাবু বিশ্বাসের দাবি রিং বিম ছাড়া ইটের দেয়ালের ওপর সরাসরি ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। রডের নিচে পর্যাপ্ত কভার ব্লক ব্যবহার না করা এবং সাটারিংয়ে ব্যবহৃত বাঁশের মান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেছেন ভবনের প্রকৃত অবস্থা নকশা ও প্রাক্কলন পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত সন্দীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর কাজ পরিদর্শন করে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ এবং কারিগরি দিক পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইফুল হাসান জোয়ারদার প্রায় ৬ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ টাকা চুক্তিমূল্যে বিভিন্ন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধা মেরামতের কাজ পেয়েছে।এখন প্রকৌশল বিভাগের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি মতামতের ওপরই মাগুরার এই সংস্কারকাজের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।
মতামত