রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ এবং অভিন্ন মানদণ্ডে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সুযোগ বাড়াতেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি বলেন, দেশের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেও পর্যাপ্ত সমন্বয়ের অভাবে অনেক প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রত্যাশিত কার্যকারিতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি না পাওয়ায় তরুণরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।আড়ও পড়ুন,পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের শঙ্কাএ পরিস্থিতিতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বডিকে দ্রুত একটি ছোট কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ পরিচালনার পাশাপাশি অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদায়ন ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও সনদের স্বীকৃতি বাড়বে।সভায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কাঠামো জনবল ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা নিরূপণ এবং স্বল্প মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।এ ছাড়া প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুমোদনহীন ঋণদাতা অ্যাপের পেমেন্ট বন্ধের নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট সেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসসহ অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।একই সঙ্গে গুগল প্লে স্টোরসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অনুমোদনহীন ঋণদাতা অ্যাপ অপসারণ এবং এসব অ্যাপের সেবা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে পরিচালিত কিছু মোবাইল অ্যাপ উচ্চ সুদে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে গ্রাহকেরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এসব অ্যাপ অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই মোবাইল ফোনের যোগাযোগ নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য ছবি ভিডিও ও খুদে বার্তায় প্রবেশাধিকার নেয়।আড়ও পড়ুন,বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুতে বড় উদ্যোগপরে ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্নভাবে গ্রাহককে হয়রানি করা হয়।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন ২০২৪-এর ১৫(২) ধারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ সংগ্রহ ঋণ বিতরণ অর্থ সংরক্ষণ কিংবা আর্থিক লেনদেন-সংশ্লিষ্ট কোনো অনলাইন বা অফলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার সুযোগ নেই।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া চিহ্নিত কিছু অ্যাপ ঋণ বিতরণ করছে। তাই এসব কার্যক্রমকে অবৈধ এবং একই আইনের ৩৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অনুমোদিত ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান এসব অ্যাপকে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে সেবা দিলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এসব অ্যাপের মাধ্যমে অবিলম্বে পেমেন্ট ও লেনদেন বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ অননুমোদিত অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে জনগণকে সতর্ক করেছিল। ডেটা চুরি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্তত ৩১টি অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ চিহ্নিত করার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি।

অনুমোদনহীন ঋণদাতা অ্যাপের পেমেন্ট বন্ধের নির্দেশ