বাব আল–মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল–মানদেব প্রণালি ঘিরে ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইরান–সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনী এই সংঘাতকে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, মোখা শহরের কাছে হুতিদের যানবাহন ও অস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে হুতি গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল–নাজিলি জানিয়েছেন, মোখা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে মোখা–ধুবাব সড়কে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার হুতিরা মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরদিন শুক্রবার তারা মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। আড়ও পড়ুন,ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ইরান-আমিরাতের একসঙ্গে যুদ্ধবিরতির আহ্বানকৌশলগত এই দ্বীপ বাব আল–মানদেব প্রণালির কাছে অবস্থিত।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল–মানদেব দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনে লড়াই তীব্র হওয়ার পর প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও রয়েছে তীব্র উত্তেজনা। ফলে হরমুজ ও বাব আল–মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথেই সংকট তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।এর মধ্যেই হামলার পর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়ার খবর এসেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হুতিরা বাব আল–মানদেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে চলমান সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট নয় বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।