শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
প্রবাসী কর্মী পাঠানো ও আয় বৃদ্ধি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠক

প্রবাসী কর্মী পাঠানো ও আয় বৃদ্ধি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠক

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন বাংলাদেশি কর্মী। একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন। বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আরও পড়ুন,আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সম্মানিত করার আশ্বাসনির্ধারিত সময়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫৯০ জন। বিদেশে কর্মসংস্থানের এই চিত্রের পাশাপাশি প্রবাসী আয় বৃদ্ধির তথ্যও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এদিকে বিদেশে যাওয়া এবং দেশে ফিরে আসা প্রবাসী কর্মীরা যাতে বিমানবন্দরে কোনো ধরনের অবহেলা কিংবা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশু রয়েছেন। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে তাঁদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রবাসীদের ভোট নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিতে চায় নেপাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ভোটিংয়ের আওতায় এনেছে নির্বাচন কমিশন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম’ এবার দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বাংলাদেশের এই প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের তৈরি এই প্রযুক্তি অন্য দেশেও ব্যবহৃত হলে কারিগরি ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বের করা সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবস্থাটির গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।আরও পড়ুন,এলপিজির নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় বিপাকে কোটি পরিবার নির্বাচন কমিশনের ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, বাংলাদেশের পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে তৈরি। নেপালের প্রতিনিধিদল নিজেদের উদ্যোগে এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে এসেছে এবং তারা ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে। গত সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা সফরের সময়ও দেশটির পক্ষ থেকে একই ধরনের আগ্রহ দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে ব্যবস্থাটিকে আরও কার্যকর করতে হবে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা ভবিষ্যতে কাজে লাগানো সম্ভব।

প্রবাসীদের ভোট নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিতে চায় নেপাল

চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এ হিসাব করা হয়েছে।রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আরও পড়ুন,ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমল সোনার দামচলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের বেশি সময়ে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ।অক্টোবরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনে ভূমিকা রাখে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের তুলনায় বেশি রয়েছে। ফলে অর্থবছরের পরবর্তী সময়েও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি

প্রবাসী আয়ে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই গতি

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪২৭ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৩০৬ মিলিয়ন ডলার।অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।শুধু তাই নয় ১৩ সেপ্টেম্বর একদিনেই দেশে এসেছে ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক অবদান আরও স্পষ্ট হয়েছে।আড়ও পড়ুন,বরিস জনসনের ট্রেন সীমান্ত পেরোতেই ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলাচলতি অর্থবছরের শুরু থেকে হিসাব করলে রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্র আরও ইতিবাচক। জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৭২৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার।শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ।অর্থনীতিবিদদের মতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে ডলারের বাজারে চাপ কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতেও প্রবাসী আয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তাই দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসী আয়ে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই গতি