শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
নতুন দামে কত হলো এক ভরি স্বর্ণ

নতুন দামে কত হলো এক ভরি স্বর্ণ

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা। বাজুস আরও জানিয়েছে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। আরও পড়ুন,এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাবিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া অলঙ্কার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ অর্থ বাদ দিতে হবে। এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি হলো। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ১৩৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বার দাম বেড়েছে, ৬৭ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২১৬ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে সোমবার ১৯ অক্টোবর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭১ ডলার ৬৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯১ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তবে স্বর্ণের বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠকের দিকে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে ফেড। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের নতুন তথ্য স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় ফেডের ওপর মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক। তাঁর মতে, ডলারের দাম শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণের দাম ধরে রাখা উল্লেখযোগ্য বিষয়। আরও পড়ুন,গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে যুক্ত হলো মুনাফার টাকানিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় ডলার ও স্বর্ণ দুটিই সুবিধা পাচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ মনে করেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যেতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর অন্তত আরও একবার সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। সোমবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা। দেশে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায়। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে ফেডের সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের ১২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের খেলনার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। বিপরীতে, গত বছর চীন একাই রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। বিশাল এই বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। তবে গত অর্থবছরে দেশের খেলনা রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। বিশ্বের ৪১টি দেশে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের খেলনা গেছে ইতালিতে। খেলনার বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ এখনো বড় অংশীদার হতে পারেনি। উদ্যোক্তাদের মতে, বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির জটিলতা, নীতিসহায়তার অভাব, পণ্যের মানোন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ঘন ঘন লোডশেডিং এ শিল্পের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে খেলনা রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। গত বছর দেশটি রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। আরও পড়ুন,আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলারতালিকায় চীনের পর রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো। সেই তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো অনেক পিছিয়ে। দেশের খেলনা রপ্তানিতে বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ৪ কোটি ২১ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বিভিন্ন গাড়ির ক্ষুদ্র মডেল তৈরি করে। এ ছাড়া উইন চ্যাম্পিয়ন প্রায় ৭৫ লাখ ডলার এবং বিপি ম্যানুফ্যাকচারিং ৪৮ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে, জার্মান-বাংলাদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা কাপকেক এক্সপোর্টস এবং চীনা বিনিয়োগের মেইগো বাংলাদেশও এ খাতে রপ্তানি করছে। এদিকে, দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের খেলনা আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও দেশীয় খেলনার চাহিদা পূরণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানি সহজ করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের খেলনা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি খেলনাকে রপ্তানি আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে এখন প্রয়োজন কার্যকর নীতিসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

কমিশন পুনর্নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানি বন্ধ এবং অব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার পুনরায় বাজারে ছাড়ার দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশকেরা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর কোম্পানিগুলো যেন নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম পরিবর্তন করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা বিইআরসির মাধ্যমে করার দাবি জানান তাঁরা। এ ছাড়া বাজারে পড়ে থাকা হাজার হাজার অব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে বাজারে ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক কোম্পানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আরও পড়ুন,দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলারআবার কিছু কোম্পানি এলপিজি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেলিম খান বলেন, বর্তমানে মাত্র ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। এতে সারা দেশে কয়েক লাখ গ্যাস সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে। এসব সিলিন্ডারে সরকার কিংবা এলপিজি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গ্যাস ভরে ডিলারদের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক জরিমানা এবং হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা। সেলিম খান জানান, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে বিইআরসির চেয়ারম্যান তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো কমিশন পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে চেয়ারম্যান তাঁকে জানিয়েছেন। এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত দুই দিনের কর্মসূচির আগে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান আসে কি না। অন্যথায় এলপিজি সরবরাহ ও বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

বাজারের ব্যাগে পণ্য কমছে খরচ বাড়ছেই

বাজারে পণ্যের তালিকা আগের মতোই থাকলেও খরচের হিসাব আর মিলছে না। তেল আটা-ময়দা মসলা সবজি থেকে শুরু করে মাছ মাংস ডিম ও দুধ—নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছে নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলো। কোনো কোনো পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্য পণ্যের বাড়তি দাম সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে।মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের বাজারদর বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারের ব্যাগে একের পর এক প্রয়োজনীয় পণ্য ঢুকলেও মাসের বাজেট ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক পরিবারকে এখন কেনাকাটার তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাজারে খোলা আটা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা এবং প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। খোলা ময়দা ৭০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এক মাস আগে প্যাকেট ময়দার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা।ভোজ্য তেলের বাজারেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৪ টাকা। দুই লিটার ৪১০ টাকা এবং পাঁচ লিটার বোতল ১ হাজার টাকা। এক বছর আগে এসব তেলের দাম ছিল তুলনামূলক কম। ফলে নিয়মিত রান্নার এই পণ্য কিনতেই পরিবারগুলোর বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।মসলার বাজারেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি চাপ। আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেজপাতার দাম উঠেছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে। এক বছর আগে তেজপাতা বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২৫ টাকায়।সবজির বাজারেও স্বস্তি সীমিত। কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা বেগুন ৯০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় কাঁচা মরিচের দাম কমেছে। তখন কেজিপ্রতি দাম ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।চাল ও ডালের বাজার অবশ্য তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দাম মানভেদে ৯৫ থেকে ১৬০ টাকা।আড়ও পড়ুন,জিটুজি ব্যবস্থায় ইউরিয়া সার আমদানির দুই প্রস্তাব অনুমোদনতবে পরিবারের মাসিক বাজার শুধু চাল ডালে সীমাবদ্ধ নয়। মাছ মাংস ডিম দুধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যোগ হওয়ায় সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা হালি। বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে বলেই খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত লাভের জন্য ইচ্ছামতো দাম বাড়ানো হচ্ছে না।

বাজারের ব্যাগে পণ্য কমছে খরচ বাড়ছেই

বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় আকারে না পড়ে, সে জন্য সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি বাজারে কঠোর নজরদারি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে না পারেন, সেজন্য বাজারে কঠোর মনিটরিং করা হবে।সম্প্রতি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেখানে পণ্য আমদানি পরিবহন এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, এসব অসংগতি দূর করতে সরকার কাজ করছে। আড়ও পড়ুন,জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করলেন তারেক রহমানএকই সঙ্গে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওিনি সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন আমদানি করা পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরয়া হচ্ছে।এদিকে গ্যাস সরবরাহের সংকটও বর্তমানে অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে চিনি সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন আমদানি করা পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান মন্ত্রী।তাঁর আশা, উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না।এর আগে লাক্কাতুরা চা বাগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে চা বাগানের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া চা বাগানের রাস্তা সংস্কার অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা এবং স্কুল স্থাপনের মতো বিষয়েও সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।এখন জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের প্রভাব পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের বাজারে কতটা পড়ে এবং সরকারের নজরদারি তা কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সেটিই দেখার বিষয়।

বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

দুই বাজারেই লেনদেন বেড়েছে কমেছে সূচক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও সূচকে পতন হয়েছে। দিনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা লেনদেনের আগ্রহ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় বাজারের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়েছে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।সূচকের পতনের পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের পরিমাণ অবশ্য বেড়েছে। সোমবার ডিএসইতে ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা।এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে।আড়ও পড়ুন,জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপএর মধ্যে ১০০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৫৪টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ বাজারে দরপতনের শিকার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দর বাড়া প্রতিষ্ঠানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮২২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।সোমবার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে। ৯০টির দর কমেছে এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল।তবে সিএসইতেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিন শেষে সেখানে ২১ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।সার্বিকভাবে সোমবারের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও বিক্রির চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ডিএসইতে দর কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দর বাড়া প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এর প্রভাব সূচকে পড়েছে।

দুই বাজারেই লেনদেন বেড়েছে কমেছে সূচক

আইসিসিবিতে আবারও জমছে গাড়ির বাজার

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা বা আইসিসিবিতে শুক্রবার তৃতীয় সপ্তাহের মতো বসছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ব্যাপক সাড়ার পর নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে আবারও বসবে এই গাড়ি কেনাবেচার আসর।এখানে ক্রেতারা কোনো ধরনের ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই নিজেদের পছন্দের গাড়ি কিংবা মোটরবাইক কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি নিজেদের ব্যবহৃত গাড়ি বা বাইকও উপযুক্ত দামে বিক্রি করতে পারছেন।গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি শুক্রবার নিয়মিত বসবে এই আয়োজন।কার বাজারে থাকছে নতুন পুরোনো ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরবাইক এবং ইউটিলিটি ভেহিকলের সমাহার। ফলে একই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দেখার পাশাপাশি পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। আড়ও পড়ুন,নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম বেড়ে ৬৫ টাকাসেই চাহিদা পূরণে ‘সুপার সেল কার বাজার’ সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।তাদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে নিজেদের গাড়ি বা যানবাহন উপস্থাপন করতে পারছেন।আয়োজকদের প্রত্যাশা, ব্যস্ত নগরজীবনে গাড়ি কেনাবেচার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে এই উদ্যোগ। ক্রেতাদের আগ্রহ থাকায় প্রতি শুক্রবার এই আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইসিসিবিতে আবারও জমছে গাড়ির বাজার

পেঁয়াজচাষি কাঁদছেন পচনে, দরপতনে

বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। এরপরও মজুত করা পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন চাষিরা। দেশে পেঁয়াজের বড় উৎপাদনস্থল পাবনা ও ফরিদপুরেই এখন এই অবস্থা। কারণ হিসেবে চাষিরা বলছেন, মজুত করা পেঁয়াজে পচন ধরার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে সংরক্ষণ পদ্ধতি কাজ না করায় তাঁরা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে পেঁয়াজ দ্রুত পচে যাওয়ার কারণ হিসেবে হাইব্রিড জাতকে দায়ী করছে কৃষি বিভাগ। ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই জেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৩৫ টন; যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৫ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৯ টন। হাইব্রিড জাতের চাষের কারণেই এ বাড়তি উৎপাদন বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। জেলার একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা (সাড়ে ৫২ শতক) পেঁয়াজ চাষে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তা থেকে ৮০ থেকে ১০০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বাজারে কম দাম থাকায় মজুত রাখা হয়, সেই মজুত পেঁয়াজে পচন ধরায় তা দাঁড়িয়েছে ৬০ থেকে ৭০ মণে। সেই হিসাবে তাঁদের উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে প্রতি মণে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। কিন্তু তাঁদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে সালথা উপজেলার পেঁয়াজচাষি দাউদ মাতুব্বর বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচই ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। সংরক্ষণ ব্যয় যোগ করলে পুরোপুরি লোকসান গুনতে হচ্ছে। আরেক কৃষক আবুল মাতুব্বর বলেন, বাজারে যে দাম, তাতে শ্রমিকের মজুরিও ওঠে না। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তাঁরা এখন কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। ফরিদপুরের কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে এয়ারফ্লো মেশিন দিলেও বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে পেঁয়াজে পচন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া জেলার অধিকাংশ পেঁয়াজচাষি প্রাচীন চাঙ (মাচা) পদ্ধতিতেও সংরক্ষণ রাখলেও সেখানেও পচন দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় পেঁয়াজচাষিদের ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়। এ বছর আরও প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি মেশিনে ১০ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায়। চাষিদের অভিযোগ, সরকারিভাবে দেওয়া এয়ারফ্লো মেশিন অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। তাঁরা বলছেন, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। বিদ্যুৎ না থাকলে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে পচনের ঘটনা বাড়ছে। সালথা উপজেলার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকারি এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হওয়ায় প্রায় ৩৫০ মণ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে সেগুলো পুকুরে ফেলে দিয়েছেন তিনি। আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মাফিকুল ইসলাম জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ারফ্লো মেশিন সার্বক্ষণিক চালু থাকার দরকার। কিন্তু সম্প্রতি বিদ্যুতের লোডশেডিং যে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে তাতে ওই যন্ত্রগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মো. শাহাদুজ্জামান জানান, এয়ারফ্লো মেশিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একনাগাড়ে তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করার পর এ ঘণ্টা বন্ধ রাখা। আধুনিক যে মেশিনগুলো সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলো সময় ঠিক করে অটো সেন্সর যুক্ত করা। বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা এ মেশিনের কার্যকারিতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে তিনি জানান। বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের বিষয়ে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এস এম নাসিরউদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে বিদ্যুতের ভয়ংকর লোডশেডিং আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। দিনে টানা তিন বা চার ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আমরা সরবরাহ করতে পারিনি।’ তবে সামনে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে বিক্রির জন্য চাষিদের নিয়ে আসা বেশির ভাগ পেঁয়াজ হাইব্রিড জাতের। অতিরিক্ত গরম আর সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সেগুলোতে পচন ধরেছে বলে জানান একাধিক চাষি। এ ছাড়া অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের কারণে দেশি পেঁয়াজও বড় হয়েছে এবং তাতে পানি বেশি থাকায় পচন ধরছে মনে করেন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। এসব বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, পেঁয়াজ কত দিন সংরক্ষণ করা যাবে তা নির্ভর করে পেঁয়াজের জাতের ওপর। এবার পেঁয়াজের জাতের কারণে আকার বড় হয়েছে, যা বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। তা ছাড়া পেঁয়াজ উত্তোলনের সময় বৃষ্টিপাতের কারণে পানির উপস্থিতি বেশি ছিল। ফলে সংরক্ষণ করতে সমস্যা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, চলতি বছর পেঁয়াজের আকার স্বাভাবিক পেঁয়াজের তুলনায় বড় হয়েছে। পেঁয়াজ বড় হলে তাতে স্বাভাবিকভাবেই পানির পরিমাণ বেশি থাকে, আর পানির পরিমাণ বেশি হলে তার সংরক্ষণক্ষমতাও কম থাকে। সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ালে পচন থেকে কৃষকেরা রক্ষা পাবে। এ জন্য সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন। গত বুধবার পাবনার বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মমিন হোসেন বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে। খুচরা বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। মাসখানেক আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। চাটমোহর উপজেলার ভাদড়া গ্রামের পেঁয়াজচাষি হাসু প্রামাণিক বলেন, তিনি ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। মাসখানেক আগে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ বিক্রি করেছেন। কিন্তু বর্তমানে সেই পেঁয়াজ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বাজারে বিক্রি করছেন। সাঁথিয়া উপজেলার কোনাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফ জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে ঘরে রাখা পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও দাম কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রাফিউল ইসলাম বলেন, জেলায় পেঁয়াজচাষি আছেন লক্ষাধিক। সেখানে পেঁয়াজ সংরক্ষণ পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে মাত্র আড়াই হাজার কৃষককে। বেশির ভাগ কৃষক নিজেদের মতো করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে কৃষক তখন পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর পাবনা জেলায় ৫৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয় ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। আর ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৭ টন। [প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন ফরিদপুর, পাবনা, চাটমোহর ও সাঁথিয়া প্রতিনিধি]

পেঁয়াজচাষি কাঁদছেন পচনে, দরপতনে