আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে সোমবার ১৯ অক্টোবর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭১ ডলার ৬৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯১ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তবে স্বর্ণের বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠকের দিকে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে ফেড। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের নতুন তথ্য স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় ফেডের ওপর মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক। তাঁর মতে, ডলারের দাম শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণের দাম ধরে রাখা উল্লেখযোগ্য বিষয়।
আরও পড়ুন,গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে যুক্ত হলো মুনাফার টাকা
নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় ডলার ও স্বর্ণ দুটিই সুবিধা পাচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ মনে করেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যেতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর অন্তত আরও একবার সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। সোমবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা। দেশে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায়। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে ফেডের সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
মতামত