শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা

আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ঋণ হিসেবে এই অর্থ দেবে। আর ঋণের গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক ধাপে এই অর্থ ছাড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বড় অংশ দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হতে পারে। সোমবার, ১২ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি অর্থ না দিয়ে ঋণের জামিনদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে সংকটে পড়া ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আরও পড়ুন,ঢাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনে নতুন সংযোজন, শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সুবিধাওই বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এদিকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। গত ১১ অক্টোবর থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন জানান, ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। শাখাগুলোতে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন না করলেও সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক আমানতকারী আপাতত টাকা তুলতে আগ্রহী নন। ফলে উত্তোলনের আবেদন তুলনামূলক কম এসেছে। নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এখন ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য তারল্য সহায়তা এবং আমানত ফেরতের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সহায়তার অর্থ ছাড় ও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের অগ্রগতি থাকবে আমানতকারীদের নজরে।

দেশের রিজার্ভে ঊর্ধ্বগতি জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ডলারের হিসাবে যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারে। আরও পড়ুন,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামও নির্ধারণ করল বাজুসঅর্থাৎ এই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগের দিন ৭ অক্টোবর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১২৩ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৩১১ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার। তুলনামূলক হিসাবে, এক দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, গ্রস রিজার্ভ এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে গণনাপদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ এক নয়।

দেশের রিজার্ভে ঊর্ধ্বগতি জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

৬১ ব্যাংকের মধ্যে ২২টি লোকসানে নিট লোকসান ৮ হাজার ৪১৭ কোটি

মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি ব্যাংক পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে এসব ব্যাংকের মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা থাকলেও প্রভিশনসহ বিভিন্ন ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট লোকসান হয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের এই চিত্র তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। তবে উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমানের কারণে সেই মুনাফা শেষ পর্যন্ত নিট লোকসানে পরিণত হয়েছে। লোকসানে থাকা ২২টি ব্যাংকের মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংক হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান লোকসানে রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ১৫টি ব্যাংক পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে। আরও পড়ুন,চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশিএসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে এবি, বাংলাদেশ কমার্স, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, আইএফআইসি, ইসলামী, মেঘনা, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, পদ্মা, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, দি প্রিমিয়ার ও ইউনিয়ন ব্যাংক। ব্যাংক খাতে অনিয়মের বড় প্রভাব পড়েছে খেলাপি ঋণেও। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ। পাশাপাশি গত মার্চ পর্যন্ত ১৫টি ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। তারল্য সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা নিয়েছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৫ হাজার ৮১০ কোটি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৭ হাজার কোটি এবং এক্সিম ব্যাংক ১২ হাজার ১০ কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংক লোকসানে থাকা ব্যাংক খাতের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে মানুষের আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোসহ খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাংক খাত সংস্কারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

৬১ ব্যাংকের মধ্যে ২২টি লোকসানে নিট লোকসান ৮ হাজার ৪১৭ কোটি

সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তাও চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্যাংকগুলোতে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের নামে থাকা হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম বা এওএফ, গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য বা কেওয়াইসি এবং হিসাব বিবরণী বা স্টেটমেন্ট চাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে পাঠানো ওই বার্তায় সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের নাম উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তাটিকে উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।বিএফআইইউ ব্যাংকগুলোকে তার নামে থাকা হিসাবের কেওয়াইসি ও হিসাব বিবরণীর সফট কপি পাঠাতে বলেছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত এক্সেল ফাইলে হিসাবসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং চিহ্নিত হিসাবগুলোর সুদ আয় ও উৎসে কর বা টিডিএস-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য এক ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত গোএমএল মেসেজ বোর্ডের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়। আড়ও পড়ুন,দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নৌপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছেপাশাপাশি বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের ধারা উল্লেখ করে তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সম্প্রতি তার কার্যালয়ে ভাঙচুরের একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় তিনি প্রথমে বিএনপির লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের কথা বললেও পরে জানান, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সালমান মুক্তাদিরসহ ব্যাপক পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা পাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে বিএফআইইউ কেন এই তথ্য চেয়েছে, সে বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট কারণ বা পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ

হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নিতে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা

২০২৭ সালের পবিত্র হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা দেওয়ার সুবিধার্থে আগামী শুক্র ও শনিবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হজযাত্রীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বিঘ্ন করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ সহজ করতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী শুক্র ও শনিবার হজের অর্থ গ্রহণকারী ব্যাংকের শাখাগ্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও হজের অর্থ জমা দিতে আগ্রহী গ্রহীতা উপস্থিত থাকলে তাদের অর্থ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে।আড়ও পড়ুন,দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ১ হাজার ৬৯১ টাকাশুধু নির্ধারিত ব্যাংকিং সময়ের মধ্যেই নয়, লেনদেনের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও হজের অর্থ জমা দিতে আগ্রহী গ্রহীতা উপস্থিত থাকলে তাদের অর্থ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।অর্থাৎ হজ নিবন্ধনের টাকা জমা দিতে গিয়ে নির্ধারিত ব্যাংকিং সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন কেউ সমস্যায় না পড়েন সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অর্থ গ্রহণের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনার ফলে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের জন্য অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নিতে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা

তারল্য সহায়তার পরও সংকট কাটছে না ন্যাশনাল ব্যাংকের

সংকটের বৃত্ত থেকে যেন বেরই হতে পারছে না ন্যাশনাল ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও শাখায় শাখায় নগদ অর্থের সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। অনেক ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ তুলতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটিএম বুথেও নিয়মিত টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারায় ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।আর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে মূলধন ও তারল্য—দুই দিক থেকেই তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটি।নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ সামলাতে সম্প্রতি ৯০ দিনের জন্য ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ডিমান্ড প্রমিসরি নোটের বিপরীতে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।তাদের মতে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা পরিচালনা পর্ষদ শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনা জরুরি।গ্রাহকদের অভিযোগও গুরুতর। আড়ও পড়ুন,পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্যচেক নগদায়নে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। আবার এটিএম থেকেও প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে না পারায় বেতনভোগীসহ সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন খরচ চালাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে বড় অঙ্কের টাকা একসঙ্গে উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারল্য ব্যবস্থাপনার কারণে কিছুটা রেশনিং করতে হচ্ছে। তবে ৫ হাজার ১০ হাজার কিংবা ১ লাখ টাকার মতো তুলনামূলক ছোট অঙ্কের টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের সমস্যা নেই বলেও দাবি করেছে তারা।ন্যাশনাল ব্যাংকের সংকট অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম বেনামি ঋণ এবং কর্পোরেট সুশাসনের দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছরে ভারপ্রাপ্তসহ ছয়জন এমডি পদত্যাগ করেছেন অথবা বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও বলেছেন শুধু তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে কোনো ব্যাংক টিকে থাকতে পারে না। ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়াতে হলে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে কাঠামোগত সংস্কার আনতে হবে।সব মিলিয়ে বিপুল খেলাপি ঋণ প্রভিশন ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট—সবকিছু মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ন্যাশনাল ব্যাংক। এখন প্রশ্ন সাময়িক তারল্য সহায়তায় সংকট সামলানো যাবে নাকি প্রয়োজন হবে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার।

তারল্য সহায়তার পরও সংকট কাটছে না ন্যাশনাল ব্যাংকের