শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
যুদ্ধ অবসানে বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছে ইরান বললেন পুতিন

যুদ্ধ অবসানে বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছে ইরান বললেন পুতিন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, সংঘাতের অবসানে সহায়তা করতে রাশিয়া তার সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত। আল জাজিরার শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর কমনওয়েলথ বা সিআইএসের শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে তারা সেখানে মিলিত হন। শুক্রবার সম্মেলনটি শুরু হওয়ার কথা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির অবসানে সহায়তা করতে মস্কো তার সামর্থ্যের মধ্যে যা কিছু সম্ভব, তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধে তেহরান বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আরও পড়ুন,আব্রাহাম লিংকনের ৩২১ দিনের অভিযান নিয়ে নতুন আলোচনাএদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা থেকে সরে আসবে না তেহরান। আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে ইরান আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখনই আলোচনা শুরু হয়, তখনই নতুন করে হামলা চালানো হয়। তা সত্ত্বেও ইরান আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাবে না। সংলাপ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে তেহরান। পুতিনের এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার কূটনৈতিক ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জোভান–তৌসিফকে নিয়ে ভক্তদের ভার্চ্যুয়াল যুদ্ধ, বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন জোভান

পছন্দের অভিনয়শিল্পীকে এগিয়ে রাখতে ভক্তদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে এবার ফারহান আহমেদ জোভান ও তৌসিফ মাহবুবকে ঘিরে ভক্তদের এমন ভার্চ্যুয়াল লড়াইয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন জোভান। ফেসবুকে তৌসিফের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে জোভান লিখেছেন, তাঁদের দুজনকে নিয়ে ভক্তদের ঝগড়াঝাঁটি ও ভার্চ্যুয়াল মারামারির আগে একটি বিষয় জানা উচিত—তাঁরা একে অপরকে যতটা সম্মান করেন, ভক্তরা একে অপরকে ততটা সম্মান করেন না। জোভান ও তৌসিফের বন্ধুত্বের শুরু ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে। রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘ঝালমুড়ি’ ধারাবাহিক নাটকে একসঙ্গে অভিনয়ের সময় তাঁদের পরিচয়। এরপর নিয়মিত একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। প্রায় ১৩ বছরের এই সম্পর্ক এখনো আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন জোভান। আড়ও পড়ুন,লং ড্রাইভে তারকাদের খোলামেলা আড্ডাব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা সময় করে একসঙ্গে আড্ডা দেন। বন্ধুত্বের নানা স্মৃতি তুলে ধরে জোভান এর আগে বলেছিলেন, ব্যস্ততা যতই থাকুক, বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হওয়া জরুরি। কারণ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে মন ভালো হয়। তাঁদের আড্ডায় ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে খুনসুটিও চলে। জোভানের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন দেখা গেছে। তাঁর পোস্টে কেউ জোভানকে সেরা বলেছেন, আবার কেউ তৌসিফকে সেরা বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ দুই তারকার ভক্তদের সেই পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রও দেখা গেছে মন্তব্যে। তবে দুই অভিনেতার নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বন্ধুত্বই প্রধান। জোভানের ভাষায়, ভক্তদের লড়াই তাঁদের নয়; তাঁরা প্রতিযোগী হলেও একসঙ্গে আড্ডা দেন এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রাখেন।

জোভান–তৌসিফকে নিয়ে ভক্তদের ভার্চ্যুয়াল যুদ্ধ, বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন জোভান

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানির দাম ও বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা। তবে যুদ্ধ শুরুর সময় যে ধরনের ভয়াবহ তেলসংকটের আশঙ্কা করা হয়েছিল এখনো তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে মূলত তিন কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজার এখনো সচল রয়েছে। বিকল্প সরবরাহপথে তেল পরিবহন বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে সরবরাহ এবং বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কমে যাওয়া—এই তিন ব্যবস্থাই এখন বাজারকে সামলে রাখছে।হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এমন বন্দরে পাঠাচ্ছে যেগুলো ইরানের নাগালের বাইরে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।তবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে এসব বিকল্প পথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ব্রাজিল গায়ানা ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ উৎপাদন বাড়িয়েছে। এতে বাজারে বাড়তি তেল এসেছে। একই সময়ে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদাও কমেছে।আড়ও পড়ুন,টানা তিন দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম ভ্রমণ কমে যাওয়া গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়া এবং বিভিন্ন অঞ্চলের শোধনাগারে সক্ষমতার ঘাটতিসহ নানা কারণে দৈনিক তেলের চাহিদা কমেছে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল।তবে এই ভারসাম্যকে খুব বেশি স্থায়ী মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের মজুত কমে যেতে পারে। বিকল্প পাইপলাইন ও পরিবহন ব্যবস্থাও একপর্যায়ে সক্ষমতার সীমায় পৌঁছাতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার কুশিংয়ে তেলের মজুত গত জুলাইয়ে পরিচালনাগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। পরে কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘ যুদ্ধ হলে মজুত নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।চীনের কাছেও বড় পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এসব মজুতও একপর্যায়ে কমে আসবে। তখন সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।এদিকে তেল পরিবহন সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়া ব্যয়বহুল এবং সামরিক সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ থেকে ৮৯ ডলারে উঠতে পারে। আর যুদ্ধ শেষ হলে দাম নেমে আসতে পারে প্রায় ৬৪ ডলারে।অর্থাৎ এখন পর্যন্ত বিকল্প পথ মজুত ও কম চাহিদার কারণে বিশ্ব তেলের বাজার বড় ধাক্কা সামলে নিয়েছে। কিন্তু এই স্থিতিশীলতা কত দিন থাকবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে ততই বাড়বে মজুত ফুরিয়ে যাওয়া বিকল্প পথের ওপর চাপ এবং হরমুজ ঘিরে নতুন হামলার ঝুঁকি। ফলে সামনে আবারও বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে তেলের দাম