শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির কারণেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হয়েছে। সোমবার ১৯ অক্টোবর সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাদক, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ইশরাক হোসেনের ঘটনাতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আখতার হোসেনের অভিযোগ, মাদক নির্মূলে নিয়োজিত সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। আরও পড়ুন,প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাকস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশ করলেও তা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, শুধু ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, এমন কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে, যাতে অবৈধ মাদক দেশে প্রবেশ করতে না পারে। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পেছনের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি শুধু অস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি এর পেছনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, লোকদেখানো পদক্ষেপ কিংবা একজন ব্যক্তির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষককে সম্মান দিলে রাষ্ট্রের মর্যাদা বাড়ে প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বাড়ে।সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত গুণী শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে। পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আদর্শ অনুসরণীয় ব্যক্তি।তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের এই সময়ে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তন এবং শিক্ষা সিলেবাসের আধুনিকায়ন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর না করে কেন ও কীভাবে এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে কৌতূহলী করে তুলতে হবে।আরও পড়ুন,এনসিপির পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের কমিটিপ্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে। আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তোলাই এর লক্ষ্য।প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প নয় বরং শিক্ষকের শক্তি হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ ও বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। কেউ শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে ঝরে পড়লেও যেন বেকার থাকতে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।শিক্ষা খাতকে সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু কর্মসংস্থানের জন্য নয়; নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও এর অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মানকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে।

শিক্ষককে সম্মান দিলে রাষ্ট্রের মর্যাদা বাড়ে প্রধানমন্ত্রী