শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম চাইলেন শ্রমমন্ত্রী

শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম চাইলেন শ্রমমন্ত্রী

গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতিনিধি মনোনীত হওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সরকারি ছুটি না থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম অসন্তোষ ও মজুরি বোর্ড নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম পাওয়া গেছে। এখন শুধু শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নামের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর সরকারি ছুটি না থাকলে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। আরও পড়ুন,বিআরটিএর বড় সুযোগযেসব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে, সেসব কারখানার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মজুরি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। শ্রম অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনো কারখানায় সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কারখানার মধ্যেই তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষের সংগঠন ও সরকার সহযোগিতা করবে। শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে যান চলাচল বন্ধ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বাইরের কেউ যেন অযথা ইস্যু তৈরি করে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পকারখানা সচল রাখার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে। শ্রমিকদের কল্যাণে প্রয়োজনে দিনরাত কাজ করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার সঞ্চালনা করেন। এতে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।

শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, আদর্শিক নেতৃত্ব গঠন এবং শ্রমিক আন্দোলনকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার শহীদ মুন্সি ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত দিনব্যাপী নেতৃত্ব উন্নয়ন শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে থানা ও সেক্টর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আরও পড়ুন,চিফ হুইপের বক্তব্যের নিন্দা জানাল জামায়াততিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাঁদের নৈতিক ও আদর্শিক উন্নয়নেও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে আদর্শের প্রচার করতে হলে দায়িত্বশীলদের নিজেদের জীবন ও কর্মে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের সমস্যা, অধিকার ও প্রত্যাশা জানতে হবে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক নেতৃত্বকে সৎ, দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী ও শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। অন্যায়-অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রামের শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল শ্রমিক আন্দোলন প্রয়োজন। ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ শিবিরে জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আয়োজনে মহানগর, থানা, সেক্টর, মহিলা বিভাগ ও ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিক নেতারা প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।

শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাবে বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেবে সরকার। মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার ৪ অক্টোবর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। শ্রমমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার শ্রমিক নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় শুরুতে বিনামূল্যে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেল এবং অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। মন্ত্রী বলেন, শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না। নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে হবে। এজন্য আগে শ্রমিকের চাহিদা নির্ধারণ করা হবে। আরও পড়ুন,পাঁচ প্রকল্পে বদলে যাবে দেশের রেল যোগাযোগ বাড়বে পণ্য পরিবহনএরপর সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক নির্বাচন করবেন। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে পাঠালে কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে আগের মতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়রানি ও অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে শ্রমিক পাঠানোর সব প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়েও অনুমোদন বাকি রয়েছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। এদিকে দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদা নিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। সরকারের আশা, দক্ষতা অনুযায়ী শ্রমিক নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং আগের অনিয়ম ও হয়রানি কমানো সম্ভব হবে।

মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাবে বাংলাদেশ