শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
পানি সংকটে ভারত-বাংলাদেশকে সমান দায় নেওয়ার দাবি

পানি সংকটে ভারত-বাংলাদেশকে সমান দায় নেওয়ার দাবি

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শুধু নবায়ন নয় নতুন করে চুক্তি করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার রাজধানীর পলাশী চত্বরে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকীর স্মরণসভায় তিনি এ দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। তাই পুরোনো চুক্তি শুধু নবায়ন না করে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নতুন চুক্তি করতে হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু পানিবণ্টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ও যৌথ নদী ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশের সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে। আরও পড়ুন,আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি বাবারপানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম প্রবাহ বজায় রাখা এবং কোনো ঘাটতি হলে ভারত ও বাংলাদেশকে সমানভাবে সেই ঘাটতির প্রভাব বহনের ব্যবস্থাও চেয়েছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে শত্রুতা নয় বরং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে কি না সেটিই মূল বিষয়। আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিদেশ সফর ও বৈঠক নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করছে তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ নিয়ে তার লেখালেখি ছিল। আবরার হত্যা মামলায় দেওয়া ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরেরও দাবি জানান তিনি।

আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ, এলপিজির বাজারে তীব্র সংকট

এক মাসের ব্যবধানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ঘাটতির সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খুচরা বাজারে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বরে তা কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা প্রায় ২৫ শতাংশ।এদিকে চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। বিভিন্ন খুচরা বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।আমদানিকারকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া। আগে একটি নৌপথে সমস্যা হলে বিকল্প পথে পণ্য আনার সুযোগ থাকত। এখন সেই সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে।তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।আড়ও পড়ুন,স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে ছাড় ২১৫৮ টাকাএলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের দাবি, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাদের হিসাবে, টনপ্রতি কার্গো প্রিমিয়াম বিইআরসির মূল্য নির্ধারণে বিবেচিত ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করলে বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি সীমিত রেখেছে বলে তারা দাবি করেন।ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ যথাসময়ে দেশে না পৌঁছানোয় সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।তবে বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা অব্যাহত থাকলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজি সংকট বজায় থাকার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ, এলপিজির বাজারে তীব্র সংকট

ডেঙ্গু আক্রান্ত মেঘদল গিটারিস্ট শোয়েবের চিকিৎসায় আর্থিক সংকট

জনপ্রিয় ব্যান্ড মেঘদলের গিটারিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ শরীফ শোয়েব ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একদিকে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ায় পড়েছেন আর্থিক সংকটে।সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে শোয়েব জানান গত সাত দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গুর পাশাপাশি ডায়াবেটিসের সমস্যাতেও ভুগছেন তিনি। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে শোয়েব লিখেছেন তার অবস্থা ভয়ানক এবং কবে বাসায় ফিরতে পারবেন তা তিনি জানেন না। এ সময় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আর্থিক সংকটের কথাও জানিয়েছেন শোয়েব। তিনি বলেন বর্তমানে মায়ের জমানো সঞ্চয়পত্র ভেঙে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হচ্ছে তাকে।অসুস্থতার মধ্যেই দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই গিটারিস্ট। তার দাবি ২০১১ সালে রাজধানীর নিকেতনে মিউজিশিয়ান ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকে নিয়ম মেনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন তিনি। আড়ও পড়ুন,পূজার ওড়না দিয়ে মুখ মুছলেন শাহরুখ নজর কাড়ল ভিডিওসময়ের সঙ্গে তার কাজের পরিমাণ ও পরিধিও বেড়েছে।শোয়েবের অভিযোগ সময়মতো পারিশ্রমিক বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে তার পাওনা অর্থ জমতে থাকে। তার দাবি ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞাপনচিত্র টিভিসি ওভিসি ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমায় সাউন্ড ও সংগীতের কাজের পারিশ্রমিক মিলিয়ে তার পাওনা অর্থের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কম নয়।বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শিল্পীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছেন শোয়েব। দীর্ঘদিন কাজ করেও পারিশ্রমিক বকেয়া থাকলে একজন শিল্পী কীভাবে অসুস্থতার সময় চিকিৎসা ব্যয় সামলাবেন সেই প্রশ্নও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি নিজের পাওনা পারিশ্রমিক নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন মেঘদলের এই গিটারিস্ট।

ডেঙ্গু আক্রান্ত মেঘদল গিটারিস্ট শোয়েবের চিকিৎসায় আর্থিক সংকট

ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, বড় সমস্যা আস্থার সংকট

ঋণের সুদের হার কমেছে। কমেছে নীতিসুদও। কিন্তু তাতেও গতি ফিরছে না বেসরকারি খাতের ঋণগ্রহণ ও বিনিয়োগে।ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগস্টে নীতিসুদ ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকঋণের ভারিত গড় সুদ ১২ দশমিক ১৬ শতাংশে উঠেছিল—যা অন্তত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮১ শতাংশে।তারপরও বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়েনি।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে—৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাইয়ে সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা এখনও অনেক কম।ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগের পথে এখন শুধু সুদের হার বাধা নয়। বরং বড় সমস্যা আস্থা।ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলছেন, পর্যাপ্ত চাহিদা, স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসংগত মুনাফার নিশ্চয়তা না থাকলে কম সুদেও উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, দুর্বল ভোক্তা চাহিদা, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং খেলাপি ঋণের উচ্চ হারও ব্যবসায়িক আস্থায় প্রভাব ফেলছে।আড়ও পড়ুন,নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত? জানুন ২০ গ্রেডের হিসাবঅন্যদিকে ব্যাংকগুলোও খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাতের দুর্বলতার কারণে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক।অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদের হার কমা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের একমাত্র সূচক নয়। বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে তাই শুধু ঋণের খরচ কমানো নয়—নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, স্থিতিশীল নীতিমালা, বাজারে চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিষয়ে পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।অর্থাৎ, ঋণ এখন তুলনামূলক সস্তা হলেও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে সেই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ?এই আস্থার প্রশ্নের উত্তর মিললেই বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, বড় সমস্যা আস্থার সংকট

তারল্য সহায়তার পরও সংকট কাটছে না ন্যাশনাল ব্যাংকের

সংকটের বৃত্ত থেকে যেন বেরই হতে পারছে না ন্যাশনাল ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও শাখায় শাখায় নগদ অর্থের সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। অনেক ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ তুলতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটিএম বুথেও নিয়মিত টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারায় ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।আর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে মূলধন ও তারল্য—দুই দিক থেকেই তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটি।নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ সামলাতে সম্প্রতি ৯০ দিনের জন্য ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ডিমান্ড প্রমিসরি নোটের বিপরীতে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।তাদের মতে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা পরিচালনা পর্ষদ শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনা জরুরি।গ্রাহকদের অভিযোগও গুরুতর। আড়ও পড়ুন,পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্যচেক নগদায়নে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। আবার এটিএম থেকেও প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে না পারায় বেতনভোগীসহ সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন খরচ চালাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে বড় অঙ্কের টাকা একসঙ্গে উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারল্য ব্যবস্থাপনার কারণে কিছুটা রেশনিং করতে হচ্ছে। তবে ৫ হাজার ১০ হাজার কিংবা ১ লাখ টাকার মতো তুলনামূলক ছোট অঙ্কের টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের সমস্যা নেই বলেও দাবি করেছে তারা।ন্যাশনাল ব্যাংকের সংকট অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম বেনামি ঋণ এবং কর্পোরেট সুশাসনের দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছরে ভারপ্রাপ্তসহ ছয়জন এমডি পদত্যাগ করেছেন অথবা বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও বলেছেন শুধু তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে কোনো ব্যাংক টিকে থাকতে পারে না। ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়াতে হলে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে কাঠামোগত সংস্কার আনতে হবে।সব মিলিয়ে বিপুল খেলাপি ঋণ প্রভিশন ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট—সবকিছু মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ন্যাশনাল ব্যাংক। এখন প্রশ্ন সাময়িক তারল্য সহায়তায় সংকট সামলানো যাবে নাকি প্রয়োজন হবে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার।

তারল্য সহায়তার পরও সংকট কাটছে না ন্যাশনাল ব্যাংকের

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

মৌলভীবাজারে তীব্র ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১১ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ৭ উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৮৬ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার কথা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি)। এ ছাড়া তিন দিন স্বাস্থ্য সহকারী এবং বাকি তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীর কাজ করার কথা। ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে বড়জোর প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিক কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা পতনঊষার শ্রীসূর্য্য কমিউনিটি ক্লিনিকে দেখা যায়, সিএইচসিপি বসে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেননি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লাইয়ারকুল কমিউিনিটি ক্লিনিক, উপজেলার কাকিয়াছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা ক্লিনিক, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যেই বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিক খোলা হয়। ক্লিনিকের লোকজন বেলা ২টার মধ্যেই চলে যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। সেবাগ্রহীতা কেউ আসলে ওষুধ সংকটের কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কমলগঞ্জের সাবিনা আক্তার বলেন, ‘এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাই না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। এ জন্য এখন অনেকেই ক্লিনিকে যাওয়া বাদ দিয়ে দিতাছে।’ রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, ‘আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। ৪ মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি।’ স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিক সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন। মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে, শিগগির ওষুধসংকট নিরসন হবে।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন এক কার্টন আসে।’ মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে। আগের চেয়ে ওষুধ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনবলের সংকট রয়েছে।

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা