রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, বড় সমস্যা আস্থার সংকট

ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, বড় সমস্যা আস্থার সংকট

ঋণের সুদের হার কমেছে। কমেছে নীতিসুদও। কিন্তু তাতেও গতি ফিরছে না বেসরকারি খাতের ঋণগ্রহণ ও বিনিয়োগে।ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগস্টে নীতিসুদ ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকঋণের ভারিত গড় সুদ ১২ দশমিক ১৬ শতাংশে উঠেছিল—যা অন্তত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮১ শতাংশে।তারপরও বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়েনি।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে—৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাইয়ে সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা এখনও অনেক কম।ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগের পথে এখন শুধু সুদের হার বাধা নয়। বরং বড় সমস্যা আস্থা।ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলছেন, পর্যাপ্ত চাহিদা, স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসংগত মুনাফার নিশ্চয়তা না থাকলে কম সুদেও উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, দুর্বল ভোক্তা চাহিদা, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং খেলাপি ঋণের উচ্চ হারও ব্যবসায়িক আস্থায় প্রভাব ফেলছে।আড়ও পড়ুন,নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত? জানুন ২০ গ্রেডের হিসাবঅন্যদিকে ব্যাংকগুলোও খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাতের দুর্বলতার কারণে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক।অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদের হার কমা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের একমাত্র সূচক নয়। বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে তাই শুধু ঋণের খরচ কমানো নয়—নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, স্থিতিশীল নীতিমালা, বাজারে চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিষয়ে পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।অর্থাৎ, ঋণ এখন তুলনামূলক সস্তা হলেও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে সেই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ?এই আস্থার প্রশ্নের উত্তর মিললেই বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে।