বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে ঘিরে সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত কমে যাওয়াকে বাজারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ ডলার করে বেড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়লেও সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প পদ্ধতিতে তেল পরিবহন করতে হচ্ছে। জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো ব্যবস্থা ব্যবহারের কারণে পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দামের ওপর এর প্রত্যাশিত নিম্নমুখী প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এটি সর্বোচ্চ রপ্তানির হার। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রেখেছে।
আড়ও পড়ুন,আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ, এলপিজির বাজারে তীব্র সংকট
এদিকে চলমান সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারে এখনো উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মজুত কমে ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ১৯৮২ সালের অক্টোবরের পর এটিই সর্বনিম্ন মজুত।
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ায় এই মজুত কমেছে। এখন ভবিষ্যতে মজুত পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজার থেকে তেল কিনতে শুরু করলে চাহিদা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
মতামত