মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা
এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার কাঠামো ও কার্যপরিধি নির্ধারণে টার্মস অব রেফারেন্স বা টিওআর স্বাক্ষরিত হয়। বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। 

আরও পড়ুন,বেবিচকের ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া

তিনি জানান, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান উদ্যোগ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বাণিজ্য সচিবের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত পদক্ষেপ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের প্রধান আলোচক খাদিজা নাজনীন বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, পণ্যের উৎপত্তিবিধি এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রথম দফার আলোচনা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

বিষয় : বিনিয়োগ চুক্তি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার কাঠামো ও কার্যপরিধি নির্ধারণে টার্মস অব রেফারেন্স বা টিওআর স্বাক্ষরিত হয়। বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। 

আরও পড়ুন,বেবিচকের ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া

তিনি জানান, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান উদ্যোগ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বাণিজ্য সচিবের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত পদক্ষেপ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের প্রধান আলোচক খাদিজা নাজনীন বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, পণ্যের উৎপত্তিবিধি এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রথম দফার আলোচনা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা
0:00 0:00
1.0x