শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে

সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে

সৌদি আরবে হাউছিদের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার সোমবার, ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ৯৬ ডলারে ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে হাউছিরা। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। আরও পড়ুন,অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডসোমবার বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে নতুন করে ডিজেল সরবরাহ এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব ঘটনায় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদি আরবে হামলা ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম কমার পরিবর্তে বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বাড়ল তেলের দাম

 বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে ঘিরে সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত কমে যাওয়াকে বাজারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ ডলার করে বেড়েছিল।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়লেও সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প পদ্ধতিতে তেল পরিবহন করতে হচ্ছে। জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো ব্যবস্থা ব্যবহারের কারণে পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দামের ওপর এর প্রত্যাশিত নিম্নমুখী প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এটি সর্বোচ্চ রপ্তানির হার। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রেখেছে।আড়ও পড়ুন,আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ, এলপিজির বাজারে তীব্র সংকটএদিকে চলমান সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারে এখনো উদ্বেগ রয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মজুত কমে ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ১৯৮২ সালের অক্টোবরের পর এটিই সর্বনিম্ন মজুত।চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ায় এই মজুত কমেছে। এখন ভবিষ্যতে মজুত পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজার থেকে তেল কিনতে শুরু করলে চাহিদা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় তেলের বিকল্প উৎস আফ্রিকা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের বিকল্প সরবরাহ উৎস হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আফ্রিকা।বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করলেও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর ছিল মহাদেশটির বেশিরভাগ দেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন শোধনাগার ও অবকাঠামো কার্যক্রমের কারণে সেই চিত্র ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে আফ্রিকা থেকে। মহাদেশটিতে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন হয়। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নাইজেরিয়া লিবিয়া আলজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলা।আড়ও পড়ুন,দেশের বাজারে আবার কমল সোনার দাম২০২৫ সালে নাইজেরিয়ায় দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আফ্রিকার শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে নাইজেরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা আফ্রিকান অপরিশোধিত তেলের ৫৫ শতাংশেরও বেশি এসেছে দেশটি থেকে।আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে লিবিয়ায়। দেশটির মজুদের পরিমাণ প্রায় ৪৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ব্যারেল। ২০২৫ সালে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করেছে।এরপর রয়েছে আলজেরিয়া। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে। অন্যদিকে অ্যাঙ্গোলাও ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করেছে।আড়ও পড়ুন,দেশের বাজারে আবার কমল সোনার দামতবে উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল আফ্রিকা। পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত শোধনাগার ও পরিশোধন সক্ষমতার অভাবই এর অন্যতম কারণ।এই পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে নাইজেরিয়ার দাঙ্গোতে শোধনাগার। দৈনিক ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতার এই শোধনাগার পুরোপুরি চালু হওয়ায় স্থানীয়ভাবে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আফ্রিকার আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে।এদিকে ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওপেকের ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটি প্রতিদিন ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরবের রপ্তানি ছিল দৈনিক ৭৯ লাখ ব্যারেল।বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের এই বাস্তবতায় আফ্রিকার বাড়তে থাকা উৎপাদন সক্ষমতা এবং নতুন পরিশোধন অবকাঠামো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে মহাদেশটির গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় তেলের বিকল্প উৎস আফ্রিকা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়লে সামনে নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।সোমবার রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এখনো অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দামে সরাসরি কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।এরই মধ্যে গণপরিবহনে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। রাজধানীর চিটাগং রোড সাইনবোর্ড যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ থেকে চলাচলকারী বাস ও লেগুনায় রুটভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।আড়ও পড়ুন,৭৫ বছর বয়সে মারা গেলেন রানি মুখার্জির মাসায়েদাবাদ থেকে খুলনা বরিশাল শরীয়তপুর ও মাদারীপুরগামী বাসে ৫০ টাকা পর্যন্ত এবং চট্টগ্রামগামী লোকাল বাসে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি রাইডশেয়ারিং এবং পণ্য পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। তাই মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না।প্রতিমন্ত্রী জানান গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় না করায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে এখনো ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি।অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ। সংস্থাটির সুপারিশ অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।তবে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। ফলে প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: নাহিদ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ দাবি জানান তিনি।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত দেশের ১৮ কোটি মানুষকে দিতে হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খোঁজার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তার দাবি, ক্ষমতায় আসার পর কয়েক মাসের মধ্যেই তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়সহ সরকারের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরার কথা উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।তিনি প্রশ্ন তোলেন, আড়ও পড়ুন,জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভজ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করছে। বর্তমান সংকটে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে অন্তত সাময়িকভাবে এসব কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো না কেন।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চায়। অথচ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কেন এত জরুরি হয়ে পড়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর পরিবর্তে রাষ্ট্রের অন্যান্য ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ওপর নতুন বোঝা না চাপিয়ে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: নাহিদ

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডিজেলসহ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার।রোববার ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়। অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৫ টাকা। পেট্রোলের নতুন দাম ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন বিক্রি হবে ১৫৫ টাকা লিটারে।এর আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা অকটেন ১৪৫ টাকা পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।আড়ও পড়ুন,আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিহত ১ আহত ২৫অর্থাৎ আগের দামের তুলনায় চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটির দামই লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দেশে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল