শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া রাখতে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে দেশটি। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আরোও পড়ুন,রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদিরএতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করাই এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ছোট নৌযানে অস্ত্রবিহীন পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার করছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। দেশটির বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে

সৌদি আরবে হাউছিদের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার সোমবার, ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ৯৬ ডলারে ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে হাউছিরা। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। আরও পড়ুন,অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডসোমবার বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে নতুন করে ডিজেল সরবরাহ এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব ঘটনায় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদি আরবে হামলা ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম কমার পরিবর্তে বেড়েছে।

সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে

ডলারের শক্তিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ওঠার পর সোমবার সোনার দাম কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ টাকায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৬ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে সোনার দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত সোনার ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দাম সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আরও পড়ুন,মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে স্বর্ণে সতর্ক বিনিয়োগকারীরাঅ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তার মতে, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। এতে ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বাড়লে সোনার দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সোনার দাম কিছুটা সমর্থন পেতে পারে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন ৮৫ শতাংশ। এদিকে সোমবার বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬০ ডলার ৬২ সেন্টে এবং প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮৪ ডলার ৭১ সেন্টে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৯ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের শক্তিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বাড়ল তেলের দাম

 বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে ঘিরে সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত কমে যাওয়াকে বাজারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ ডলার করে বেড়েছিল।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়লেও সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প পদ্ধতিতে তেল পরিবহন করতে হচ্ছে। জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো ব্যবস্থা ব্যবহারের কারণে পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দামের ওপর এর প্রত্যাশিত নিম্নমুখী প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এটি সর্বোচ্চ রপ্তানির হার। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রেখেছে।আড়ও পড়ুন,আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ, এলপিজির বাজারে তীব্র সংকটএদিকে চলমান সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারে এখনো উদ্বেগ রয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মজুত কমে ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ১৯৮২ সালের অক্টোবরের পর এটিই সর্বনিম্ন মজুত।চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ায় এই মজুত কমেছে। এখন ভবিষ্যতে মজুত পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজার থেকে তেল কিনতে শুরু করলে চাহিদা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে সোনার দাম

বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন হয়েছে। তেলের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৬১ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। এ সময় ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে লেনদেন হচ্ছিল সোনা। ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, ইরান যুদ্ধের দ্রুত ও চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ফলে তেলের দাম এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব সোনার বাজারেও পড়তে পারে এবং দাম আরও কমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বর্তমানে প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। সোনা কোনো সুদ দেয় না। ফলে বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে গেলে সোনায় বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বাড়ে। এতে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনার পরিবর্তে সুদযুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।আড়ও পড়ুন,হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নিতে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলাএদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ দশমিক ০৩ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬১ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।দেশের বাজারে রুপার দামও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপা ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪২৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৩৬৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপা বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ টাকায়।

বিশ্ববাজারে কমেছে সোনার দাম

বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপলাইনে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এর প্রভাবে বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের তেলের দামই কমেছে।আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ১৮ সেন্টে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ৩৫ সেন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল এই তেল বিক্রি হচ্ছে ৯০ ডলার ১৭ সেন্টে।মূলত লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপলাইনে সৌদি আরব আবারও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শুরু করায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের আশাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।অবশ্য মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দেন। তবে একই সময়ে তিনি জানান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন তাদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।রয়টার্স জানায় তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা এবং প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানের উদ্যোগে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর এদিনই প্রথমবারের মতো ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামে।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে বেশি আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে।আড়ও পড়ুন,জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য অব্যাহত থাকলেও বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিচ্ছে।এ ছাড়া মঙ্গলবার সৌদি আরব লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দেশটির ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল তোলা বন্ধ হয়ে যায়।এখন সৌদি আরব এই পাইপলাইন ফের সক্রিয় করায় প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো হচ্ছে।অন্যদিকে ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে বলে দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন। তিনি বলেন ইরাক প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করার আশাও প্রকাশ করেছে দেশটি।

বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনায় সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে।সোমবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩১১ দশমিক ২০ ডলার।ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভোর মতে মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়েছে। এর সঙ্গে তেলের দাম নতুন করে বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য বলছে চলতি সপ্তাহের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৯ শতাংশ। অথচ গত সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ।গোল্ডম্যান স্যাকস ও এইচএসবিসির মতো আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোও ধারণা করছে আগামী মঙ্গল ও বুধবারের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে।শুধু সোনা নয় অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দেখা গেছে দরপতন।আড়ও পড়ুন,পাচার হওয়া সম্পদে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি রুপার দাম কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। প্ল্যাটিনামের দাম কমেছে ২ শতাংশ। আর প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।এদিকে বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বর্তমানে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনের পর বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে এর কী প্রভাব পড়ে এখন সেদিকেই নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন