শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক
পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন, বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।ভরতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে শুল্ক বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা তুলনামূলক কম দামে পাটপণ্য সরবরাহ করায় দেশটির স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছে।নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশের ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে শুল্ক টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়েছে। আর তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে ভারতীয় আমদানিকারকদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবেএ ছাড়া বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ওপর টনপ্রতি ১২০ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ক্ষেত্রে শুল্ক রাখা হয়েছে সবচেয়ে কম—টনপ্রতি ৫৯ ডলার।তবে নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

আড়ও পড়ুন,বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বাড়ল তেলের দাম

ভারতের ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পর গত বছরের জুনে বাংলাদেশ ও নেপালের পাটকলগুলোর ওপর পর্যালোচনা শুরু করে ডিজিটিআর। তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি মিল তথ্য সরবরাহ করে।ডিজিটিআরের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে বাংলাদেশি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে আসে।বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক ভারতের সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে পাটের সুতা, টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় কম।তবে তাঁর মতে, ভারতের বাজারে রপ্তানি কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব নাও পড়তে পারে।

বিষয় : এবি পার্টি শুল্ক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন, বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।ভরতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে শুল্ক বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা তুলনামূলক কম দামে পাটপণ্য সরবরাহ করায় দেশটির স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছে।নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশের ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে শুল্ক টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়েছে। আর তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে ভারতীয় আমদানিকারকদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবেএ ছাড়া বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ওপর টনপ্রতি ১২০ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ক্ষেত্রে শুল্ক রাখা হয়েছে সবচেয়ে কম—টনপ্রতি ৫৯ ডলার।তবে নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

আড়ও পড়ুন,বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বাড়ল তেলের দাম

ভারতের ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পর গত বছরের জুনে বাংলাদেশ ও নেপালের পাটকলগুলোর ওপর পর্যালোচনা শুরু করে ডিজিটিআর। তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি মিল তথ্য সরবরাহ করে।ডিজিটিআরের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে বাংলাদেশি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে আসে।বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক ভারতের সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে পাটের সুতা, টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় কম।তবে তাঁর মতে, ভারতের বাজারে রপ্তানি কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব নাও পড়তে পারে।



ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক
0:00 0:00
1.0x